logo
Advertisement

রাজবাড়ী/মানুষ বাঁচানোর রেসকিউ বোট নিজেই ডুবছে

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
রাজবাড়ী, ঢাকা
মানুষ বাঁচানোর রেসকিউ বোট নিজেই ডুবছে
পদ্মার পানিতে ডুবে আছে উদ্ধারকারী জাহাজ চন্দনা-১ ও চন্দনা-২। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বন্যার সময় পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করার কথা ছিল যেসব বিশেষ রেসকিউ বোটের, সেগুলোই এখন নদীর পানিতে ডুবে আছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আধুনিক দুটি উদ্ধারকারী নৌযান দীর্ঘদিন ধরে রাজবাড়ীর সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাট এলাকায় অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। বর্ষায় নদীর পানিতে বোটের ইঞ্জিন ও পাটাতন তলিয়ে যায়, আর শুকনো মৌসুমে আটকে থাকে কাদার ওপর। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ইঞ্জিনে পানি ঢুকছে, নষ্ট হচ্ছে সরঞ্জাম এবং চুরি হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রাংশ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ‘চন্দনা-রাজবাড়ী-১’ ও ‘চন্দনা-রাজবাড়ী-২’ নামের দুটি রেসকিউ বোটের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ অংশ পানিতে নিমজ্জিত। বোটের বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে এর মূল কাঠামো। বোটের ভেতরেও জমে আছে পানি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই স্থানে পড়ে থাকলেও এগুলোকে কখনো কোনো উদ্ধারকাজে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাপ্রবণ ও উপকূলীয় এলাকার মানুষের নিরাপদ উদ্ধারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড (ডিইডব্লিউএল) ৬০টি মাল্টিপারপাস অ্যাক্সেসিবল রেসকিউ বোট নির্মাণ করে। প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে প্রতিটি বোট নির্মাণে খরচ হয় আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা। ৫৪ ফুট দীর্ঘ প্রতিটি বোটে একসঙ্গে ৮০ জন মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এবং এগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৭ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা আজমল মণ্ডল বলেন, অনেক বছর ধরে বোট দুটি এখানেই পড়ে থাকতে দেখছি। কোনো দিন এগুলোকে চলতে দেখিনি। আগে দুজন লোক দেখাশোনা করতেন, এখন আর কাউকে দেখা যায় না। সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হওয়া খুবই দুঃখজনক।

আরেক বাসিন্দা মোজাহার শেখ বলেন, আর কিছুদিন এভাবে পড়ে থাকলে বোট দুটি পুরোপুরি অচল হয়ে যাবে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কোটি টাকার এই সম্পদ একেবারেই নষ্ট হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আরিফুল হক বলেন, বোট দুটি একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে আমাদের কাছে আসে। কিন্তু প্রজেক্টের মেয়াদ ২০২৪ সালের মাঝামাঝি শেষ হয়ে যাওয়ায় বোট দুটির জন্য নিয়োজিত চালকদের দায়িত্বও শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে নিয়মিত দেখভালের আর কোনো ব্যবস্থা নেই। বোটগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য বিশেষজ্ঞদের একটি টেকনিশিয়ান টিম আসার কথা রয়েছে।