কিস্তির টাকায় কেনা শেষ সম্বল হারিয়ে দিশাহারা দম্পতি

কোরবানির ঈদে পালিত ষাঁড়টি বিক্রি করে একটি টিনের ঘর তুলবেন, এমনই স্বপ্ন ছিল জিয়া শেখ ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগমের। কিন্তু ঈদের মাত্র কয়েক দিন আগে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। চোরের হাতে হারাতে হয়েছে তাদের একমাত্র গরুটি।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামের বাসিন্দা জিয়া শেখ ও স্বপ্না বেগমের ভিটেমাটি থাকলেও বাসযোগ্য ঘর নেই। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তারা একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করেন। ঝড়বৃষ্টি এলেই তাদের দুর্ভোগ বাড়ে।
পরিবারটির দাবি, গত ২৪ মে রাতের কোনো একসময় গোয়ালঘরের দরজার শিকল কেটে তাদের পালিত একমাত্র ষাঁড়টি চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে গরুটির চামড়া পাওয়া যায়।
ঘটনার পর দিশাহারা হয়ে পড়েছেন জিয়া শেখ ও তার পরিবার। এ ঘটনায় তারা লোহাগড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে এখনও কাউকে আটক করা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে জিয়া শেখ নিয়মিত মাঠে কাজ করতে পারেন না। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি ভ্যান চালাতেন। কিন্তু গত এক বছরে তার দুটি ভ্যানই চুরি হয়ে যায়। পরে ঋণ নিয়ে একটি গরু কিনে পালন শুরু করেন। কোরবানির ঈদে গরুটি বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পাওয়ার আশা ছিল তার। সেই অর্থ দিয়ে একটি টিনের ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন।
জিয়া শেখ বলেন, আমার তিন সন্তান। মেয়েটা একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। কোমরের ব্যথার কারণে ভারী কাজ করতে পারি না। ভ্যান চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চলত। এক বছরে দুইটা ভ্যান চুরি হয়ে গেছে। ভাবছিলাম, গরুটা বিক্রি করে একটা ঘর করব। কিন্তু সেটাও শেষ হয়ে গেল।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, সকালে গিয়ে দেখি পুকুরপাড়ে গরুর চামড়া পড়ে আছে। এখন কী করব, বুঝতে পারছি না।
স্বপ্না বেগম বলেন, রাতে গোয়ালে গিয়ে গরু দেখে এসেছিলাম। ভোরে উঠে দেখি নেই। কিস্তির টাকায় কেনা গরুটাও চলে গেল। আমাদের সব শেষ হয়ে গেল।
লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম নূর মোহাম্মদ বলেন, পরিবারটির একমাত্র সম্বল ছিল গরুটি। চুরির ঘটনায় তারা ভেঙে পড়েছে। দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
লোহাগড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিজন কুমার সরকার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
