logo

বকেয়া চাওয়ায় উল্টো চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি, যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, নেত্রকোনা
বকেয়া চাওয়ায় উল্টো চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি, যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩
অভিযুক্ত মেহেদী হাসান সাহসসহ দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামালার আসামি যুবদল নেতা মেহেদী হাসান ওরফে সাহসসহ (৩০) দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হোটেল মালিকের কাছে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।

অভিয়ান চালিয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে আজ বুধবার (২০ মে) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া মেহেদী হাসান দুর্গাপুর পৌরসভার পশ্চিম মোক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুরুল হকের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তার দাদা ইমাম হাসান জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি। তার যুবদলের পদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইউসুফ খান।

অন্য দুজন হলেন বাগিচাপাড়া এলাকার হাসু মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (৩০) ও সাধুপাড়া এলাকার মো. মেহেদী (২৮)।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে থানায় হত্যাসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার নাজিরপুর মোড়ে 'ভাই ভাই এন্ড জনতা হোটেলে' তার সহযোগীদের নিয়ে বাকিতে খাবার খেতেন।

গত ৪ এপ্রিল রাতে খাবার খেতে এসে হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে তিনি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালিয়ে যান। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে বাকিতে খাবার খেতে থাকেন।

গত ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টার দিকে মেহেদী প্রায় ১৫ জন সহযোগীকে নিয়ে ওই হোটেলে এসে খাবার খান। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ বকেয়া মিলিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা বিল চান। এতে মেহেদী ক্ষিপ্ত হয়ে হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উল্টো দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে মামলা বা পুলিশকে জানানোর জন্যও নিষেধ করা হয়।

এতে মালিক খোকন মিয়া ভয়ে তিন দিন হোটেল বন্ধ রাখেন। পরে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মেহেদী হাসানকে প্রধান আসামি করে এবং আটজন সহযোগীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আটজনের নামে মামলা করেন। গতকাল রাতে পুলিশ মেহেদী হাসানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

হোটেল মালিক খোকন মিয়া বলেন, 'মেহেদী হাসান বিভিন্ন সময় তার সহযোগীদের নিয়ে আমার হোটেলে খেয়ে এক লাখ টাকা বকেয়া করেন। টাকা চাইতে গেলেই তিনি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, প্রাণনাশসহ নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেন। ওই দিন গভীর রাতে খাবার খাওয়ার পর আমার ম্যানেজার টাকা চাইলে তিনি উল্টো দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ব্যবসা করতে হলে তাকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হবে বলে জানান। তাই খুন ও জখমের ভয়ে তিন দিন হোটেল বন্ধ রাখি। পরে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করি। তার ভয়ে এলাকার মানুষ সব সময় আতঙ্ক ও অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহ বলেন, 'তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে মেহেদী হাসান সাহসসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।'