logo
Advertisement

মহাসড়ক ঘেঁষে সিটি করপোরেশনের ময়লার ‘পাহাড়’

রেজাউল করিম
গাজীপুর, ঢাকা
মহাসড়ক ঘেঁষে সিটি করপোরেশনের ময়লার ‘পাহাড়’
মহাসড়কে চলাচল করছে যানবাহন। পাশে বিশাল ময়লার স্তুপ। গাজীপুরে কড্ডা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। সম্প্রতি তোলা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

গাজীপুরে কড্ডা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সারি সারি রাখা সিটি করপোরেশনের বর্জ্য অপসারণের গাড়ি। এসব গাড়ি থেকে মহাসড়কের পাশে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে শত-শত টন বর্জ্য। এতে মহাসড়ক ঘেঁষে ময়লা জমে অনেকটা পাহাড়সম আকৃতি ধারণ করেছে।

গাজীপুর মহানগরীর ভোগরা কিংবা চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে প্রায় চার কিলোমিটার এগোলে দেখা মেলে প্রায় ৫০ ফুট উঁচু এই ময়লার স্তুপের। দূর থেকে চোখে পড়ে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা বিপুল বর্জ্য। প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি এসে এখানে বর্জ্য ফেলে। দিন যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে ময়লার স্তূপের উচ্চতা ও বিস্তৃতি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে ময়লা পরিবহনের গাড়িগুলো নির্দিষ্ট বাইপাস সড়ক দিয়ে গিয়ে বর্জ্য ফেলে আসত। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা হতো না। কিন্তু বর্তমানে মহাসড়কের পাশে এবং একাংশ দখল করে ময়লার গাড়ি দাঁড় করিয়ে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ব্যস্ততম এই মহাসড়কের একটি লেন কার্যত সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল ও উত্তরবঙ্গগামী এবং টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যানবাহনকে অনেকটা ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ময়লার গাড়ি আসা-যাওয়ার সময় যানজট আরও তীব্র হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ময়লা বহনকারী সিটি করপোরেশনের একাধিক গাড়ি মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাড়ি থেকে বর্জ্য নামানোর সময় সড়কের একটি অংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন চালকরা বলছেন, ব্যস্ততম ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় গাজীপুর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের জন্যও এ সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটি ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে ময়লার গাড়ি রেখে বর্জ্য ফেলার কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

দুর্গন্ধে অতিষ্ঠতা

স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘ দিন ধরে জমে থাকা ময়লার স্তূপ থেকে বৃষ্টির পানি ও বর্জ্য মিশে তৈরি হচ্ছে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত তরল। সেই পানি চুইয়ে পড়ছে মহাসড়কের ওপর। সড়কে পাশে কাদার সৃষ্টি হচ্ছে। যানবাহনের চাকার সঙ্গে কাদা ছিটকে পড়ছে পথচারী ও আশপাশের মানুষের শরীরে। পাশাপাশি পচা বর্জ্যের দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে।

মহাসড়কে দাঁড়িয়ে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গাড়ি। ছবি: এশিয়া পোস্ট
মহাসড়কে দাঁড়িয়ে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গাড়ি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বর্জ্যের দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আশপাশের দোকান, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব পড়ছে। তাছাড়া ময়লার স্তূপে দীর্ঘ দিন ধরে পচে থাকা বর্জ্যের কারণে সেখানে মাছি, মশা ও বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। বড় বড় পোকামাকড় বের হয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় দোকানদার আসলাম উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, দুর্গন্ধে এখানে থাকা যায় না। সিটি করপোরেশনের গাড়ি এখানে থাকার কারণে যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। ময়লার স্তুপ থেকে বড় বড় পোকা বের হচ্ছে। আমরা খুবই অস্বস্তিতে আছি। সিটি করপোরেশন থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

আরেক বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, এখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে দীর্ঘ বছর ধরে। সাম্প্রতিক সময়ে পরিমাণ বেড়েছে। মহাসড়কে ময়লার গাড়ি রাখা হচ্ছে। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়ে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংকট

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আয়তন প্রায় ৩২৯ বর্গকিলোমিটার। বিশাল এই নগরীতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের বসবাস। পাশাপাশি রয়েছে প্রায় দুই হাজারের বেশি শিল্পকারখানা। এত বড় একটি শিল্পনগরীর জন্য পর্যাপ্ত ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা না থাকায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ দেখা যাচ্ছে।

ময়লা চুইয়ে পড়া পানিতে কাদা জমেছে সড়কে। ছবি: এশিয়া পোস্ট
ময়লা চুইয়ে পড়া পানিতে কাদা জমেছে সড়কে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

অনেক জায়গায় নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তার পাশে, খোলা জায়গায় কিংবা বিভিন্ন জলাশয়ের আশপাশে ময়লা জমছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বর্জ্যের সঙ্গে পানি মিশে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হচ্ছে।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশনের ময়লা আবর্জান পরিস্কারের জন্য রয়েছে ৪৮৯ জন শ্রমিক। ৫৭টি ওয়ার্ডে বর্জ্য বহনের জন্য ৫০টি গাড়ি রয়েছে। এসব গাড়িতে করে ময়লা সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গার সংকটের কারণে সাময়িকভাবে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কাশিমপুর এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুপারভাইজার মো. ইমরান হোসেন বলেন, আমি ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। ময়লার কারণে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। আমি কিছু বলতে পারব না, স্যারদের থেকে জেনে নেন কেন সমস্যা হচ্ছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, আমরা ময়লা ফেলার বিকল্প জায়গা ব্যবস্থা করছি। ব্যবস্থা হলে এই সমস্যা থাকবে না। আমরা বড় ধরনের ঝামেলায় পড়ে আছি।