মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশকে মারধর করে আসামি ছিনতাই

যশোরের কেশবপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মব সৃষ্টির মাধ্যমে তিন পুলিশ সদস্যকে মারধর করে সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে ছিনতাই করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের হিজলডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসমত আলী, কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল হাবিবুল্লাহ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশকে মারধর করে আসামি ছিনতাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেশবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম। পরে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে তিনটি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করতে যায় পুলিশ। হিজলডাঙ্গা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পর রাত দেড়টার দিকে পুলিশ আসামিকে মেরে ফেলেছে- এমন ভুয়া খবর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকার ৫০-৬০ জন লোক জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কেশবপুর থানার কনস্টেবল শহিদুল ইসলামকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা যায়। তিনি বলেন, আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয়রা মব সৃষ্টির মাধ্যমে মারধর করে। এ সময় আসামি জাহাঙ্গীর মাথা দিয়ে তার বুকে সজোরে আঘাত করেন। মব সৃষ্টিকারীরা হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে আসামি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে কেশবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনটি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে রাতে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ আসামিকে মেরে ফেলেছে- এমন ভুয়া খবর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকার লোক জড়ো করে মব সৃষ্টি করা হয়। পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ওই লোকজনের মারধরে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।