logo

আট মাসেও শেষ হয়নি সড়ক সংস্কার, দুর্ভোগে তিন উপজেলার মানুষ

আট মাসেও শেষ হয়নি সড়ক সংস্কার, দুর্ভোগে তিন উপজেলার মানুষ
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী-জাফরগঞ্জ সড়ক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় উথলী-জাফরগঞ্জ সড়কের চার কিলোমিটার সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময়েও শেষ হয়নি। সংস্কারের জন্য সড়কের কার্পেটিং তুলে ফেলে রাখা হয়েছে প্রায় আট মাস ধরে। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৬ শতাংশ। এর মধ্যে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর তিন উপজেলার হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের জন্য সড়কের কার্পেটিং তুলে ফেলার পর দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে চলে গেছে বলেও দাবি তাদের। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পল্লি সড়ক ও কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির অধীনে সড়কটির চার কিলোমিটার সংস্কারের অনুমোদন দেওয়া হয়। উথলী থেকে মঠ ব্রিজ পর্যন্ত এ কাজের ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৯ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আহাদ বিল্ডার্স গত ১৮ জানুয়ারি কাজ শুরু করে। কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ১৭ জুন।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৬ শতাংশ। ফলে সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং তুলে রাখায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বৃষ্টির পানি জমে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উথলী থেকে জাফরগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। তিন উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

বাড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আক্তার বলে, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হয়। বৃষ্টি হলে রাস্তায় পানি জমে থাকে, আবার কোথাও বড় বড় গর্ত রয়েছে। এতে আমাদের চলাচলে অনেক সমস্যা হয়।

এ পথে নিয়মিত যাতায়াতকারী স্থানীয় বাসিন্দা লিটন আহম্মেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই সড়কের বেহাল অবস্থা। পরে গত রমজান মাসে সড়কের চার কিলোমিটার সংস্কারের কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। এরপর বৃষ্টি শুরু হলে তারা কাজ বন্ধ করে দেন। এখন এমন অবস্থা হয়েছে, তাতে কাজ শুরু না করলেও ভালো হতো।

অটোরিকশাচালক তারেক হোসেন বলেন, নয় কিলোমিটারের পুরো সড়কটাই খানাখন্দে ভরা। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙা অংশ থাকায় অটো চালাতে খুব সমস্যা হয়। গর্তে চাকা পড়লে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, মেরামতেও বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পানি জমে গর্ত বোঝা যায় না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে। বৃষ্টির দিনে মোটরও নষ্ট হয়ে যায়। এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে আয়ের বেশির ভাগই গাড়ি মেরামতে ব্যয় করতে হয়। দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করা দরকার।

স্থানীয় ব্যবসায়ী লুৎফর হোসেন বলেন, রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারণে দোকানের মালামাল আনা-নেওয়ায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। গাড়ি চলাচলে ধীরগতি ও ভোগান্তির কারণে পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। এতে ব্যবসার খরচ বাড়ছে, প্রভাব পড়ছে লাভের ওপরও। দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ হলে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

বাড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ্ মো. রফিকুল ইসলাম (এডিসন) বলেন, উথলী-জাফরগঞ্জ সড়ক শুধু একটি রাস্তা নয়। মানিকগঞ্জের শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনীতি এ জরাজীর্ণ সড়কের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন পড়ে থাকা এ সড়ক শুধু জনভোগান্তি বাড়াচ্ছে না, ক্ষতিগ্রস্ত করছে পুরো এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থাকেও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবালয় উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শুরু করার জন্য তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে। আশা করছি, ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ হবে। আর বাকি পাঁচ কিলোমিটারের জন্য এ অর্থবছরে আরও চার কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। অন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বাকি এক কিলোমিটার সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উথলী থেকে জাফরগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়কের চার কিলোমিটার সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল বছরের শুরুতে। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৬ শতাংশ। ফলে সংস্কারের নামে খুঁড়ে ফেলে রাখা সড়কটি এখন স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আসিফ আল আজাদ

সম্পাদনা

আসিফ আল আজাদ

সহ-সম্পাদক | এশিয়া পোস্ট