logo

সাজেক সড়কে ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ

সাজেক সড়কে ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ
অবরোধের সমর্থনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করেন আন্দোলনকারীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাঙামাটিতে পাহাড়ি দুটি আঞ্চলিক সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাজেক সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে স্থানীয় দুটি সংগঠন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে সাজেক সড়কের বেশ কিছু এলাকায় অবরোধের সমর্থনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কের তাদের উপস্থিতি কমে আসে।

‘সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন’ নামে স্থানীয় দুটি সংগঠন যৌথভাবে এই অবরোধের ডাক দেয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সাজেকের মাসালং এলাকার বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সদস্যরা। গত ১১ অক্টোবর ওই সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ ৩ দফা দাবিতে তারা প্রথম দফায় সাজেক সড়কে অবরোধ শুরু করেন।

পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় ফের দ্বিতীয় দফায় সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)।

দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, এসব ইউপিডিএফের ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার। ইউপিডিএফ দীর্ঘদিন ধরে সাজেকে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও জনগণের ওপর শোষণ-পীড়ন চালিয়ে আসছে। জনসংহতি সমিতি পার্বত্য সমস্যার স্থায়ী সমাধান, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করছে। সুতরাং সাজেকসহ সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামেই আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার রয়েছে।

এদিকে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধ ও চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন গত ১১ অক্টোবর (রোববার) থেকে সাজেক পর্যটন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। এমন অবরোধ ও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।