logo
Advertisement

যশোরের ভবদহ/চারদিকে পানি, আক্ষেপ ঘুচে না

চারদিকে পানি, আক্ষেপ ঘুচে না
পানি জমে আছে বাড়ির চারপাশে। যশোরের ভবদহ অঞ্চলের মনিরামপুর হাটগাছা গ্রাম থেকে তোলা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চারদিকে পানি। ঘরবাড়ির উঠান, চলাচলের পথ, ফসলের জমি—সবই একাকার। এভাবেই কাটছে বাসিন্দাদের দিনের পর দিন। কোথাও নৌকা, কোথাও বাঁশের সাঁকো; আবার কোথাও বুক সমান পানি মাড়িয়ে করতে হয়ে যাতায়াত। বছরের পর বছর এমন জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন যশোরের ভবদহ অঞ্চলের বাসিন্দারা। তবু তাদের আক্ষেপ ঘুচে না জানিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন গৃহবধূ শিবালী দাস।

জেলার অভায়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের এই বাসিন্দা বলেন, আমরা হচ্ছি জলজ প্রাণী। সাপ-ব্যাঙের সঙ্গে আমাদের বসবাস। সরকার ও আমলারা মিলে আমাদের জলজ প্রাণী বানিয়ে রাখছে। আমরা এ জলজ প্রাণী হয়ে বাঁচতে চাই না

স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, শিবালী দাসের মতো আক্ষেপ থাকা এই অঞ্চলের প্রত্যেক বাসিন্দার কথায় সব সময় খুঁজে পাওয়া যায় দীর্ঘ দিনের অসহায়ত্ব। জলাবদ্ধতা যেন তাদের জীবনের স্থায়ী সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা এলে দুর্ভোগ বাড়ে। পানি নামতে দেরি হলে বাড়ে রোগবালাই, নষ্ট হয় ফসল, ব্যাহত হয় শিক্ষা ও স্বাভাবিক চলাচল। অনেক পরিবারের কাছে নিজের ঘর তখন হয়ে ওঠে একেকটি দ্বীপ।

অভায়নগরে ডুমুরতলা গ্রামের গৃহবধূ শিবালী দাস বাচ্চা কোলে নিয়ে সাকো পার হচ্ছেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট
অভায়নগরে ডুমুরতলা গ্রামের গৃহবধূ শিবালী দাস বাচ্চা কোলে নিয়ে সাকো পার হচ্ছেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের স্কুলশিক্ষক শিবপদ বিশ্বাস বলেন, আমাদের গ্রামের ১৫৫টি বাড়ির মধ্যে মাত্র ছয়টি ছাড়া বাকি সব বাড়ির উঠান দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে। সামান্য বৃষ্টি হলে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু জায়গায় চলে যেতে হয়।

মণিরামপুরের সুজাতপুর গ্রামের গৃহবধূ বিথী রাণী বলেন, আমাদের থাকার জায়গা নেই। আমাদের রান্নাবান্না, খাওয়া-দাওয়া সব রাস্তায়।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, যে নদী কাটা হয়েছিল সেটা ভরাট হয়ে গেছে। যে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল তা পরিপূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়নি। এখন যে উদ্ভূত পরিস্থিতি, এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বহীনতা প্রধানত দায়ী।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, প্রকল্পের প্রায় ৭৩ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসব স্থানে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নদী খননের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে। জলাবদ্ধতা অনেকটা কমে আসবে। প্রকল্পের সুফল পেলে আগামী পাঁচ থেকে সাত বছর এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকবে না বলে আমরা আশা করছি।