লটারির বাইরে স্কুলে ভর্তি, লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ

গোপালগঞ্জের এসএম মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল লটারি ও অপেক্ষমাণ তালিকার বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ ও সহকারী শিক্ষক মো. মুজাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক অভিভাবক।
অভিযোগকারী রেশমা আক্তার জেলা প্রশাসক ও ভর্তি কমিটির সভাপতি মো. আরিফ উজ জামানের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে দাবি করেন, তার ছেলেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে সহকারী শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম প্রথমে এক লাখ টাকা নেন। পরে প্রধান শিক্ষককে দেওয়ার কথা বলে আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হয়।
তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীকে দুদিন ক্লাস করার সুযোগ দেওয়ার পর জেলা প্রশাসকের নিষেধাজ্ঞার কথা বলে তাকে ক্লাস করতে নিষেধ করা হয়। টাকা ফেরত চাইলে ‘ডিসি অফিস ম্যানেজ’ করার অজুহাতে তা ফেরত দেওয়া হয়নি।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ডিজিটাল লটারি, মেধাতালিকা ও অপেক্ষমাণ তালিকার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে চার শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দিবা শাখায় আব্দুর রহমান (রোল ৩৩৭) ও প্রভাতী শাখায় ইস্তিয়াক হোসাইন (রোল ৩৩৫), ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রভাতী শাখায় মাহিন হাওলাদার (রোল ২৫৫) এবং এপ্রিলে সৌহার্দ্য ভাদুড়ির (রোল ২৫৭) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির নির্ধারিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রেশমা আক্তার।
অভিযোগকারী ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অন্য শ্রেণিতেও এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে অন্য শ্রেণিতে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ। তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার সুপারিশে ওই শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়েছিল। তবে ভর্তির জন্য কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ভর্তি কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসককে বিষয়টি না জানানোর কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক কোনো উত্তর দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ-জামান জানান, একজন অভিভাবকের অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। বিষয়টি তদন্ত করে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

