logo

জনগণকে ঘুমে রেখে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: জামায়াত আমির

জনগণকে ঘুমে রেখে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

জনগণকে ঘুমে রেখে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে আমির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, গত মাসে প্রায় ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। এই মাসে আবার ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। পার্লামেন্টে কোনো আলোচনা না করেই এভাবে দাম বাড়ানো জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে গত মাসে সিলেটে খুন হওয়া চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে সমবেদনা জানান জামায়াতের আমির।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে, সেখানেও আলাপ করা হয়নি। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে এখন সবকিছুর দাম বাড়বে। এতে ভুক্তভোগী হবে জনগণ। এটি জনস্বার্থবিরোধী।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ডিজেল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর অর্থ হচ্ছে করের বোঝা সরাসরি জনগণের ওপর চাপানো। এই কর ব্যবসায়ীরা নিজেদের পকেট থেকে দেবে না, তারা জনগণের কাছ থেকে আদায় করবে। এই যন্ত্রণা সব বয়সের, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঘাড়ে পড়বে। বিষয়টি সরকারকে বিবেচনা করা উচিত ছিল।

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, তেলের দাম বাড়াতেই হয় তাহলে আগামী বাজেট অধিবেশনে খোলামেলা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। তা না করে তড়িঘড়ি করে জনগণকে ঘুমে রেখে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ‘দেশ ভালো নেই’ উল্লেখ করে বলেন, এত মানুষের রক্তের বিনিময়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, দেশ এখন সেই প্রত্যাশার বিপরীতে হাঁটছে। তবে ওই স্রোত যত ভয়াবহ হোক, আমরা সেই সোতের বিপরীতে লড়াই করে যাব।

সরকারের ১০০ দিন নিয়ে মূল্যায়ন জানতে চাইলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ তারিখ থেকে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। আমার মূল্যায়ন সংসদের আগামী অধিবেশনেই বলব। তবে এখন শুধু এটুকু বলি, দেশ ভালো নেই।

হামে শিশু মৃত্যু প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হামে শিশু মৃত্যুর দায় সবার। কেবল অন্তর্বর্তী অন্তর্বর্তী করে লাভ নেই। এই সরকার তো হঠাৎ করে ঘুম থেকে ওঠেনি। আরও আগে থেকেই তো হামের প্রাদুর্ভাব। তারা কেন আগে থেকেই ব্যবস্থা নিল না। কেন আগে থেকে টিকার ব্যবস্থা করল না? এ ব্যাপারে আমি সংসদে কথা বলব।

শিশু ফাহিমা হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা লম্পট ছেলের হাতে ফাহিমার জীবন ও ইজ্জ্বত ছিন্নভিন্ন হয়েছে। একটা গোলাপ ফুলের মতো বাচ্চাকে তার বাবার চোখের সামনে থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই লম্পটের একমাত্র শাস্তি হচ্ছে তার দুনিয়ায় বেঁচে থাকার অধিকার নেই। এই রকম লম্পটদের শাস্তি না হলে লম্পটদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাবে। আমরা জাতি হিসেবে লজ্জিত।

তিনি বলেন, আমরা মাসুম বাচ্চাদেরও ইজ্জত রক্ষা করতে পারছি না। অথচ আমরা বড় বড় কথা বলি। কেউ কেউ হুমকির সুরে কথা বলছি।

ডা. শফিক বলেন, জাকির এতো বড় অপরাধ একা করেনি। তার অপনজনরাও এর সঙ্গে জড়িত। তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে কেউ লম্পটের সহযোগী হওয়ার সাহস করবে না।

ফাহিমা হত্যা মামলার বিচার কাজে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২৮ দিন হয়ে গেল, এখন পর্যন্ত এই ঘটনার চার্জশিট প্রদান করা হলো না। পুলিশ যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে না পারে তাহলে তাদের এখানে থাকার দরকার নেই।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার রামিসা হত্যার বিচার একমাসের মধ্যে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমি চাই বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা এখানকার সংসদ সদস্যও এই রকম ঘোষণা দেবেন। দ্রুত ফাহিমা হত্যার বিচারকাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবেন।