গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে মৃত্যু: ৯ মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে দুই থানায় মামলা

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে পড়ে অভিবাসন প্রত্যাশী সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ৯ মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলো দায়ের হয়েছে দিরাই ও জগন্নাথপুর থানায়।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ১২টার দিকে দিরাই থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের নিহত সোহানুর রহমান এহিয়ার বাবা ছালিকুর রহমান। একই রাতে জগন্নাথপুর থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন উপজেলার পাইলগাঁও গ্রামের নিহত আমিনুর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিরাই থানার মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন—উপজেলার জগদল গ্রামের হাফিজ সালেহ আহমদ (৩৫), দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের জসিম উদ্দিন (৪০), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আশরাফুল ইসলাম (৩৭) এবং আরেকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি।
জগন্নাথপুর থানার মামলায় আসামি করা হয়েছে—ইছগাঁও গ্রামের আজিজুল ইসলাম, কবিরনগর গ্রামের জসিম উদ্দিন, ছাতক উপজেলার বিল্লাল হোসেন, তার ভাই দুলাল হোসেন এবং এনাম আহমেদকে। তাদের মধ্যে বিল্লাল, দুলাল ও এনামের পূর্ণ ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জগন্নাথপুর থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম জানান, নিহত আমিনুর রহমানের বাবা পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আজিজুল ও জসিম লিবিয়ায় অবস্থান করছেন, বিল্লাল পর্তুগালে এবং দুলাল ও এনাম দেশে রয়েছেন।
গত শনিবার লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে একটি নৌকায় থাকা অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি, যার মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার তিন উপজেলার ১২ জন রয়েছেন।
বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় তীব্র খাবার ও পানির সংকটে যাত্রীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অনেকেই মারা যান। অভিযোগ রয়েছে, পাচারকারীদের নির্দেশে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
মামলার বাদী ছালিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জনপ্রতি ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তার ছেলেকে লিবিয়া হয়ে গ্রিসে পাঠানোর কথা ছিল। নিরাপদ বড় নৌকার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ঝুঁকিপূর্ণ ছোট নৌকায় তোলা হয়। পথেই অনাহারে তার ছেলেসহ অনেকের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে দিরাই, জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ১২ জন যুবক রয়েছেন।