টিনের ডিঙিতে নৌকাবাইচ, ৩৬ বছরের ঐতিহ্যে ফিরল কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে টিনের তৈরি ছোট নৌকায় ব্যতিক্রমী নৌকাবাইচের মধ্য দিয়ে ফিরেছে ৩৬ বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। প্রায় দীর্ঘ পাঁচ বছর বন্ধ থাকার আবারও এই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) উপজেলার ময়ানখালী মোড়সংলগ্ন বহলার বিলে এ বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকেরা জানান, প্রায় ৩৬ বছর ধরে বহলার বিলে টিনের নৌকা নিয়ে এই নৌকাবাইচের আয়োজন হয়ে আসছে। পাশেই গড়াই নদী থাকলেও বহলার বিলের টিনের নৌকার বাইচ স্থানীয়দের কাছে আলাদা ঐতিহ্যের। নানা কারণে টানা পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর দীর্ঘ বিরতি শেষে এবার আবারও আয়োজনটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শুক্রবার শুরু হয়ে শনিবার শেষ হয় দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা।
আয়োজকদের মতে, ব্যতিক্রমী এই নৌকাবাইচে শুধু নন্দলালপুর ইউনিয়নের স্থানীয়রাই অংশ নেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মোট ১১টি দল এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।

আয়োজক কমিটির সদস্য আব্দুস সামাদ বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমাদের বাপ-দাদাদের এই নৌকাবাইচ করতে দেখে আসছি। তারা এই বিলেই টিনের নৌকা নিয়ে বাইচের আয়োজন করতেন। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতেই আমরা আবার আয়োজন করেছি। এই বাইচ দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ আসেন। মানুষের বিনোদন ও আনন্দের জন্যই আমাদের এই আয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল বলেন, ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে এই বাইচ দেখতে আসতাম। তখনও এই টিনের নৌকাগুলো মানুষের আনন্দের বড়ো একটি উপলক্ষ্য ছিল। অনেক বছর বন্ধ থাকার পর আবার সেই দৃশ্য দেখতে পেরে ভালো লাগছে। আমাদের মতো নতুন প্রজন্মের কাছেও এটি পুরোনো দিনের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ।
আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, এটা শুধু নৌকাবাইচ নয়, আমাদের এলাকার মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িত একটি আয়োজন। বাপ-দাদার সময় থেকে চলে আসা এই ঐতিহ্য হারিয়ে গেলে এলাকার একটি অংশের ইতিহাসও হারিয়ে যাবে। তাই প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এমন আয়োজন করা হলে মানুষ আনন্দ পাওয়ার পাশাপাশি পুরোনো ঐতিহ্যটিও টিকে থাকবে।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, গ্রামবাংলার এমন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাপ-দাদার সময় থেকে চলে আসা টিনের ডিঙি নৌকার এই নৌকাবাইচ শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের এই ঐতিহ্য তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বহলার বিলের পানিতে সারিবদ্ধভাবে ছুটছে ছোট ছোট টিনের নৌকা। প্রতিযোগীদের বৈঠার ছন্দে মুখর হয়ে ওঠে বিলপাড়। নৌকাবাইচ দেখতে নারী পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সি মানুষের ভিড় জমে। প্রতিযোগিতা ঘিরে পুরো এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দুপুরে গ্রুপভিত্তিক নৌকাবাইচ শুরু হয়ে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় শেষ হয়।
নৌকাবাইচ শেষে সন্ধ্যার দিকে বিজয়ী দলগুলোর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতায় গ্রুপ এ–তে বিজয়ী একতা এক্সপ্রেস ও গ্রুপ বি–তে বিজয়ী ঝংকার এক্সপ্রেস। দুই গ্রুপের বিজয়ী দলকে বড় একটি খাসি ছাগল পুরস্কার দেওয়া হয়।



