logo

প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪

প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪

ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক কিশোরীকে (১৪) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে সোমবার জেলা ভালুকা থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ভালুকা উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের আশু মিয়া ওরফে আশ্রাফ আলীর ছেলে মো. হোসাইন (২১), আব্দুল মোতালিবের ছেলে মো. ফারুক আহাম্মেদ (১৭), মো. শহীদের ছেলে মো. আরিফ (১৭) ও মঞ্জুরুল হকের ছেলে মো. মেহেদী হাসান (২০)।

ওই কিশোরী নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি ময়মনসিংহ নগরীর একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ওই কিশোরীর যখন ৪ মাস বয়স, তখন তার মা এবং ৪ বছর বয়সে বাবা মারা যায়। গত ১০ বছর সে তার সৎ মায়ের কাছে ছিল। গত দুই মাস আগে সৎ মায়ের শারীরিক নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাড়ি থেকে পালিয়ে ময়মনসিংহ নগরীর একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ নেয়। প্রায় মাস ছয়েক ধরে মোবাইলের মাধ্যমে জিসান ইসলাম নামের ফেসবুক আইডি পরিচালনাকারী একটা ছেলের সঙ্গে কিশোরী প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। জিসান ইসলাম নামের ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন সময় কিশোরীকে দেখা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। গত ১৪ মার্চ কিশোরী ময়মনসিংহ থেকে জিসান ইসলাম নামের ফেসবুক আইডি পরিচালনাকারীর সঙ্গে দেখা করার জন্য বাসযোগে রাত ৯টায় ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছায়।

জিসান ইসলাম নামের ফেসবুক আইডি থেকে তাকে জানানো হয়—মেয়েটি কোথায় আসবে। সে অনুযায়ী ভালুকা বাসস্ট্যান্ড থেকে এক ব্যক্তি মেয়েটিকে রিসিভ করে সিএনজিতে ওঠায়। এরপর তাকে সিএনজিযোগে পাঁচগাঁও নামক স্থানে নিয়ে যেতে থাকলে মেয়েটির সন্দেহ হলে সে সেখান থেকে অগ্রসর হতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মেয়েটিকে বলপূর্বক পাঁচগাঁও খালের পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে সেখানে উপস্থিত আরও ৩ ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণ করে মেয়েটিকে খালের পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় ভালুকা মডেল থানা পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ ঘটনায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা হয়।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।