logo

‘এই বছর ধান নাই, ঈদের আনন্দও নাই’

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, সুনামগঞ্জ
‘এই বছর ধান নাই, ঈদের আনন্দও নাই’
ডুবে যাওয়া ধান কেটে দেখার হাওরপাড়ে তুলছেন এক কৃষক। ছবি : এশিয়া পোস্ট

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওরপাড়ের রাবারবাড়ি-নীলপুর গ্রামের কৃষক সাজু মিয়া (৫০)। ঋণ-কর্জ করে এই বছর বার ৭ কিয়ার জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করেছিলেন। অতিবৃষ্টিতের জলাবদ্ধতায় ৪ কিয়ার জমির ধান তলিয়ে গেছে। ৩ কিয়ার জমিরও ধান কাটার পচে ও চারা গজিয়ে নষ্ট হয়েছে।

আসছে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষক সাজু মিয়া বলেন, ‘হাওরপাড়ের মানুষের ঘরে ধান থাকলেই হাসিখুশি থাকে। এই বছর হাওরের অর্ধেক ধানই পানির নিচে চলে গেছে। অন্যবছর ঈদের আগে কিছু ধান বিক্রয় করে কাপড়-চোপড় কেনাসহ অন্যান্য বাজার করতাম। এই বছর বেচার মত ধান নেই, ঈদের আনন্দও নাই। ঈদের আগে সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা পাইলে উপহার অইত।’

কৃষক ও কৃষক সংগঠনের নেতাদের দাবি, ঈদের আগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি খাদ্য ও অর্থ সহায়তা প্রদানের জন্য। তারা বলেছেন, ধান তলিয়ে যাওয়ার এক মাস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রত সহায়তা প্রদান করলে সেই অর্থ ঈদে খরচ করার সুযোগ পাবেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ১৩৭টি হাওরে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমি চাষাবাদ হয়েছিল। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ১৪ লাখ টন ধান। মার্চের শেষদিকেই সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি শুরু হয়। এরপর লাগাতার বৃষ্টিতে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ডুবে যায় জেলার সবকয়টি ছোট বড় হাওরের নিচু এলাকা। অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় জেলায় ২০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৩৯৬ হেক্টর জমি। শনিবার বিকেল পর্যন্ত হাওরে প্রায় ৯০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে।

জানা গেছে, সুনামগঞ্জে কৃষক আছেন প্রায় চার লাখ কৃষক পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কৃষক সংগঠনের দাবি প্রায় অর্ধেক জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের দাবি নিচু এলাকার প্রায় এক লাখ হেক্টরের বেশি জমি পানিতে ডুবেছিল। কিছু ধান পানির নিচ থেকে কৃষকরা তুলে আনলেও রোদ না থাকায় চারা গজিয়ে ও পচে নষ্ট হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের (ইউনিয়ন পরিষদ) সমন্বয়ে সংগ্রহ করা তথ্যে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জের এক লাখ ২৯ হাজার ৫৫৯ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত শুক্রবার (১৪ মে) বিকেলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চূড়ান্ত করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, এই বছর হাওরের ৬০ ভাগ জমি ও কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফসলহানির প্রায় এক মাস হয়েছে কিন্তু এখনও কৃষকদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না। ঈদের আগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সরকারি ত্রাণ ও অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হলে তাদের উপকার হতো। কিন্তু ঈদের আগে দেওয়ার পরিবেশ দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্যে জেলায় এক লাখ ২৯ হাজার ৫৫৯ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা আশা করছি ঈদের আগের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সহায়তা পেতে পারেন।

গত ৫ মে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বোরো ফসলহারা ৪০০ জন কৃষককে নগদ ৭ হাজার টাকা ২০ কেজি করে চাল দিয়ে তিন মাসব্যাপী সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।