logo

কুষ্টিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত

কুষ্টিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত
খয়েরপুর গ্রামে নিহত আব্দুল হালিমের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল হালিম (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খয়েরপুর গ্রামে মান্নান ও ইউসুফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল হালিমকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের মরদেহ বর্তমানে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত আব্দুল হালিম খয়েরপুর গ্রামের মৃত কলম সর্দারের ছেলে। তিনি ইউসুফ মেম্বারের পক্ষের বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইকবাল হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, আব্দুল হালিম নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আরেকজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মসজিদের ব্যাটারি চুরিকে কেন্দ্র করে আলামপুর ইউনিয়নের রাজাপুর খয়েরপুর এলাকায় মান্নান মেম্বার ও বকুল এবং ইউসুফ মেম্বার ও মেহেদী সমর্থকদের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা চলছিল। শনিবার ভোরবেলায় চাপাইগাছি বিলের পাশে দুই গ্রুপ জড়ো হয়। ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য হালিম বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে মান্নান মেম্বার সমর্থকের নজরুলের বাড়ির ছাদ থেকে দেশীয় অস্ত্র ছুঁড়ে মারলে হালিমের গলায় লাগে। গুরুতর আহত আব্দুল হালিমকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মান্নান গ্রুপের বকুল নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত আব্দুল হালিমের ছেলে হাবিবুর রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে তাদের লোকজনকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে আর কোনো বিরোধ ছিল না।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি তাদের এক ব্যক্তি আলমপুর থেকে ভ্যানে করে আসার সময় কয়েকজন তাকে মারধরের হুমকি দেন। বকুলের নির্দেশে খালেক, মান্নান, সাগর, শফি, রনি ও জনিসহ কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে তার বাবা আব্দুল হালিমকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

এদিকে পুলিশ জানায়, ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাটি দুই থানার সীমান্তবর্তী হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুষ্টিয়া মডেল থানা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসআরবি টিমও রয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, এই ঘটনায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।