মির্জাগঞ্জে শিশু-নারীদের পেটানোর অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে গিয়ে হিন্দু নারী-শিশুসহ তিনজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার কাঁকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ গাবুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মো. মজিবর রহমান উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি ও কাঁকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য।
আহত তিনজন হলেন, দক্ষিণ গাবুয়া গ্রামের সমীর চন্দ্র, তার স্ত্রী সবিতা রানী (৫০) ও তাদের মেয়ে ঝিলিক রানী (২২)।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ গাবুয়া গ্রামের সমীর চন্দ্র হাওলাদারের বসতঘরের সামনে তার দাদা স্বর্গীয় কান্তি চরণ গোস্বামীর দান করা জমিতে নির্মিত একটি মন্দিরসংলগ্ন কতগুলো বনজ গাছ আছে। গাছের ডালপালা কাটতে যান সমীর। এ সময় তার ভাই শংকর চন্দ্র হাওলাদার গাছটির মালিকানা দাবি করে বাধা দেন। এতে দুপক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শংকর চন্দ্র বিএনপি নেতা মজিবর রহমানকে ফোন করে ডেকে আনেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মজিবর ঘটনাস্থলে লোকজন নিয়ে এসে শংকর চন্দ্রের পক্ষ নিয়ে সমীরকে লাঠিপেটা শুরু করেন। এ সময় সমীরকে রক্ষা করতে তার স্ত্রী সবিতা রানী ও মেয়ে ঝিলিক রানী এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়।
পরে তাদের বাড়ি ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
আহত সমীর, সবিতা, ঝিলিককে ঘটনার দিন মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে রোববার বিকেলে তারা বাড়ি ফিরে বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী সবিতা ও ঝিলিক অভিযোগ করে জানান, অভিযুক্ত মজিবর রহমান আগেও বিভিন্ন সময়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়ি থেকে উৎখাতের চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।
এদিকে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মজিবর রহমান। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি মহল আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য এ অভিযোগ করছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে আমি বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তার আগেই দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের লোকজন আহত হয়েছেন। আমি বা আমার সঙ্গে থাকা কেউ কাউকে মারধর করেনি।
এ বিষয়ে জানতে শংকর চন্দ্র হাওলাদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা বিএনপি সভাপতি সাহাবুদ্দিন নান্নু বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের ওপর এ ধরনের ঘটনা নিন্দনীয়। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দলের কেউ জড়িত থাকলে, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সালাম জানান, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।