logo

ঈদের পর বাড়ি ফেরার কথা, আসছেন লাশ হয়ে

ঈদের পর বাড়ি ফেরার কথা, আসছেন লাশ হয়ে

নূরনবী সরকার ১০ বছর আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমান। আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর বাড়ি ফেরার কথা। বাড়িতে চলছিল তার ফেরাকে ঘিরে নানা প্রস্তুতি। আশায় দিন গুনছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তাদের অপেক্ষায় যোগ হয়েছে বিষাদের গ্লানি। মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মারা গেছেন নুরনবী সরকার।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) তার মৃত্যুর খবর শোনার পর পরিবার ও এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। স্থানীয়রাও ভিড় করছেন তাদের বাড়িতে।

পরিবারিক সূত্র জানায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা এলাকার বাসিন্দা নুরনবী আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ২০১৬ সালে তিনি মালদ্বীপের দ্বিগুড়া আইল্যান্ডে পাড়ি জমান। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর আসন্ন ঈদের পর দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। সেই খবরে পরিবারের সবাই আনন্দিত ছিলেন।

নুরনবীর বাবা আব্দুস সামাদ বলেন, আমার ছেলে অনেক কষ্ট করে বিদেশে কাজ করত। বলেছিল ঈদের পর বাড়ি আসবে। আমরা সবাই তার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু এখন শুনছি সে আর ফিরবে না, তার মরদেহ আসবে। আমর ছেলের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে আনা হয়, সরকাররে কাছে দাবি জানাই।

জানা গেছে, মরদেহ দেশে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারেরে সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ সেন্টার বগুড়ার সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছি। মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মালদ্বীপের ধিগুড়া আইল্যান্ডের একটি নির্মাণাধীন কোম্পানির লেবার কোয়ার্টারে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পাঁচ বাংলাদেশি নিহত ও দুইজন আহত হন।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় শোক জানিয়ে হাইকমিশনের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নিহতদের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন, তাজ উদ্দিন ইসলাম, মো. সদর আলী, মো. রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও মো. নূরনবী সরকার। আর আহত দুজন হলেন জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন। আহত দুই জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মালে-তে স্থানান্তর করা হয়েছে।