logo

৫ বছরেও শেষ হয়নি পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণ, দুর্ভোগে কৃষক

৫ বছরেও শেষ হয়নি পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণ, দুর্ভোগে কৃষক

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সুবলপুর গ্রামে ভৈরব নদে নির্মাণাধীন ১৪ ভেন্টের পানি সংরক্ষণাগার প্রকল্পটি স্থানীয় কৃষকদের কাছে আশীর্বাদ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাঁচ বছরেও নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় এটি এখন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লক্ষ্য ছিল ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচন। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ছয়টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নদের মাটি বিক্রি, অপরিকল্পিত বাঁধ এবং ধীরগতির কাজের কারণে ২৮ কোটি টাকার এই প্রকল্প এখন গলার কাটা।

চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব নদ পুনঃখনন (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ২০২২ সালের ২৭ জুলাই এই পানি সংরক্ষণাগারের কাজ শুরু হয়। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, তবে চুক্তিমূল্য দাঁড়ায় ২৮ কোটি ৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তমা কনস্ট্রাকশন’ ও কুষ্টিয়ার নাসির উদ্দিন মোল্লা যৌথভাবে এই কাজটি পায়।

সুবলপুর ও পাটাচোরা গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগার টগরের প্ররোচনায় তার ভাই উপজেলা পরিষদে সাবেক চেয়ারম্যান আলী মনসুর বাবু ও আরিফ হোসেন নদের মাটি কেটে কয়েক কোটি টাকায় ইটভাটায় বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে নদের তীরবর্তী কৃষিজমি এবং সুবলপুর গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি এখন ভাঙনের মুখে। পাটাচোরার এক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, মাঠের এক বিঘা জমি ভেঙে গেছে, আমরা এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।

সংস্কারের ফলে ভৈরব নদ প্রাণ ফিরে পেলেও এই ধীরগতির প্রকল্প নদটিকে আবার পলি জমে ভরাট হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলছে। স্থানীয়দের দাবি, অতি দ্রুত স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্পটি শেষ করে কৃষিজমি ও যাতায়াতের রাস্তা রক্ষা করা হোক।

অপরিকল্পিতভাবে নদে বাঁধ দেওয়ার ফলে বর্ষাকালে সুবলপুর, পাটাচোরা, কাঞ্চনতলাসহ আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফসল রক্ষায় বাধ্য হয়ে ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে তিন দফায় কৃষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাঁধ কেটে দেন। এতে নির্মাণাধীন অবকাঠামো বারবার তলিয়ে গিয়ে কাজের ব্যাঘাত ঘটে। বর্তমানে নামমাত্র জনবল নিয়ে কাজ চললেও তার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশবাদীরা।

নদী বাঁচাও আন্দোলন চুয়াডাঙ্গার সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী বলেন, রিজার্ভার নির্মাণের জন্য যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার কথা, তা এখানে হচ্ছে না। ফলে প্রকল্পের স্থায়ীত্ব নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে নদীর প্রবাহ যদি বন্ধ করে রাখা হয়, তখন নদী আর আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না।

চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজিম উদ্দিন বলেন, কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ না হওয়ায় মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দেন তিনি।