পুলিশের কাছ থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের অভিযানের সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ডেকুয়ারচর গ্রামে একটি ফুটবল খেলার মাঠের পাশে এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশের দাবি, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ওই নেতাকে পালাতে সহযোগিতা করেন।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীন (৩০)। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং একই উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও মাদকসংক্রান্ত মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল তিনটার দিকে সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে রঙতরঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে একটি ফুটবল খেলা শুরু হয়। খেলাটির উদ্বোধন করেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান। খেলা দেখতে সেখানে উপস্থিত হন রিয়াজুল আলম। পরে তার অবস্থানের খবর পেয়ে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
পুলিশ রিয়াজুলকে আটক করতে গেলে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোললে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। এ সময় অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়া বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। দূরের একটি চায়ের দোকানে বসে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হতে দেখেছেন।
তিনি দাবি করেন, রিয়াজুল আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন বলেই পুলিশ তাকে ধরেছিল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ঘটনায় তার নাম জড়াচ্ছেন।
সরিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হারুন অর রশিদ স্বপনও অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে তার নাম এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে। তিনি পুলিশকে বারবার আটক ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে বলেছেন বলেও দাবি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিয়াজুল আলমের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, মামলাগুলো ২০১৬ সালের ২ আগস্ট, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট করা হয়।
আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মো. মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনিই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেনেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, রিয়াজুল মাদকসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাকে পালাতে সহযোগিতা করেন।
তবে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া কিংবা গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন ওসি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।


