আওয়ামী লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খাঁন

আওয়ামী লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহের শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরাতে জামায়াত ইসলামীর আমিরর সংসদ নির্বাচনের আগেই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিল। জামায়াতের ইন্ধনে বর্তমানে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ মিছিল করার সাহস পাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ফিরলে আবারও জামায়াতের নেতাদের ফাঁসি দেবে। জামায়াত নেতাদের বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হতে হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরাতে জামায়াত অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগকে ইন্ধন দিচ্ছে। আবার লংমার্চের নামে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু জামায়াতের ডাকে মানুষ এখন আর রাজপথে নামবে না।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্র পুনর্গঠন না হলে আর কখনই হবে না। সরকার রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পথে রয়েছে। কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে একটি পক্ষ আওয়ামী লীগকে মাঠে নামাচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে ৭১-এর ঘাতক ও ২৪-এর পরাজিত শক্তি এক হয়ে গেছে।
রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত কখনও সংসদে বিরোধী দল হতে পারেনি। এবার তারা বিরোধী দল হয়েছে। তারা সংসদে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেছে। ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারকে সবসময় সহযোগিতা করবে, যৌক্তিক সমালোচনা করবে। কিন্তু জামায়াতের নেতৃত্বে ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারের বিরোধিতা করছে। তারা জ্বালানি সংকটের মতো বৈশ্বিক সমস্যাকে পুঁজি করে সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চ করে বেড়াচ্ছে।
এর আগে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের যানজট নিরসন ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে পৌর মার্কেটের উদ্বোধন করে রাশেদ খাঁন।
উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, বর্তমান বিদ্যুৎ সমস্যার পেছনে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ব্যবস্থাপনাগত বিভিন্ন সমস্যাও রয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি গ্যাস টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুটি টার্মিনাল প্রকল্প এবং ৩৭টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করা হয়েছিল। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকারকে দীর্ঘ সময়ের ঘাটতি এবং সাম্প্রতিক সমস্যাগুলো একসঙ্গে সামাল দিতে হচ্ছে।
রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের সংকট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের ব্যবস্থাপনার সংকট—সবকিছু মিলিয়ে বর্তমান সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে। সবকিছুর জন্য সাত মাসের সরকারকে দায়ী করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিগগিরই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।