বিএনপির দুই নেতার ওপর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ

পিরোজপুরে জেলা যুবদলের এক নেতাসহ দুজনের ওপর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত দুজন বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (৩ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম। এর আগে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পিরোজপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ সরদার এবং তার চাচাতো ভাই ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল সরদার। তারা দুজনই মধ্যরাস্তা এলাকার বাসিন্দা।
রিয়াজ সরদার জানান, মঙ্গলবার রাতে তিনি ও তার চাচাতো ভাই সাইফুল সরদার মধ্যরাস্তা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে আওয়ামী লীগের স্টিকার লাগাতে এলে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে উভয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।
তিনি আরও জানান, তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী হামলায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শেখ ইমরান শুভকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পিরোজপুর জেলা যুবদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক মাসুদ বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় আমাদের সংগঠনের একজন নেতা ও তার ভাই আহত হয়েছেন। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে জেলা যুবদল কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
