পর্যটনকেন্দ্র নেই, ঈদের আনন্দ খোঁজে মানুষ নদীপাড়ে

পিরোজপুরে উল্লেখযোগ্য কোনো আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র না থাকায় ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে জেলার বিভিন্ন সেতু ও নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোই মানুষের বিনোদনের প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ঈদের তিন দিন বেকুটিয়া, বলেশ্বর ও জিয়ানগর সেতু এবং কঁচা নদীর তীরের ডলফিন চত্বরে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
বিকেল হলেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে হাজারো মানুষ ছুটে আসছেন কঁচা নদীর তীরে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা নদীপাড়, শীতল বাতাস এবং অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (বেকুটিয়া সেতু) দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে সেতুতে অতীতে ছোট-বড় কয়েকটি দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে শিশু-কিশোরদের নিয়ে সেখানে বেড়াতে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
ডলফিন চত্বরে বসা ছোটখাটো মেলা ও খাবারের দোকানগুলো শিশু-কিশোরদের আনন্দ বাড়িয়ে তুলেছে। পিরোজপুর সদর, ভান্ডারিয়া, কাউখালী, নাজিরপুর ও জিয়ানগর ছাড়াও পাশের ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করছেন।
কাউখালী উপজেলা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে এখানে এসেছি। কঁচা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর দৃশ্য খুবই সুন্দর। নদীর পাড়ের বাতাস আর ট্রলারে ঘোরার অভিজ্ঞতা শিশুদের জন্য দারুণ ছিল।
ভান্ডারিয়া থেকে আসা কলেজছাত্রী মনিরা আক্তার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডলফিন চত্বরের ছবি দেখে সেখানে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় সেতু ও নদীর দৃশ্য অসাধারণ লাগে, বলেন তিনি।
পিরোজপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা নাজিয়া নিশাত বলেন, শহরে কোনো শিশু পার্ক না থাকায় সন্তানদের নিয়ে তাকে বেকুটিয়া সেতু এলাকায় আসতে হয়েছে। তিনি বলেন, শুনেছি শিশু পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখছি না।
শিক্ষার্থী তাবাসসুম সুলতানা বলেন, জেলা শহরে একটি আধুনিক শিশু পার্কের প্রয়োজন রয়েছে। তার মতে, এমন একটি বিনোদনকেন্দ্র শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ায় তাদের বিক্রিও বেড়েছে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন।
তবে জেলার মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদনব্যবস্থা না থাকায় আক্ষেপ রয়েছে অনেকের। জেলা সদরে একটি ডিসি পার্ক নির্মাণ করা হলেও সেখানে শিশুদের জন্য স্থায়ী খেলাধুলার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া পার্কটি শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে হওয়ায় অনেকেই সেখানে যেতে আগ্রহী নন।
এদিকে, ২০২০-২১ অর্থবছরে পিরোজপুর শহরের বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী মুক্তারকাঠী এলাকায় একটি শিশু পার্ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কিন্তু ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। এখন পর্যন্ত জমি ভরাট ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ কিছু প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে জেলার হাজারো শিশু আধুনিক বিনোদন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
পিরোজপুর জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, প্রকল্পটির জন্য নতুন কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
