মাকে মারধরের সময় জড়িয়ে ধরা শিশুকে দেয়ালে ছুড়ে মারেন বাবা

গার্মেন্টস কর্মী শারমিন আক্তারকে মারধর করছিলেন তার স্বামী মো. সজীব। পাশে ছিল তাদের দুই বছর বয়সি শিশু সন্তান। সে এসে মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। তখন সজীব শিশুটিকে বাসার দেয়ালের দিকে ছুড়ে মারে। পরে হাসপাতালে না নিয়ে রেখে দেওয়া হয় বাসায়। শেষ পর্যন্ত শিশুটি মারা যায়।
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা নিয়ে হওয়া মামলার এজাহারে এমনটা উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোরে মামলার দুই আসামি মো. সজীব ও তার মা নুর নাহার বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ৭ এপ্রিল রাতে দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের বৌ বাজার এলাকার একটি ভবনে ওই ঘটনা ঘটে। মৃত শিশুর নাম আশরাফ বিন সামির। ঘটনা ধামাচাপা দিতে আসামিরা প্রচার করে সামির অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। শারমিন অচেতন থাকা অবস্থায় ওই রাতেই তড়িঘড়ি করে শিশুটির দাফন সম্পন্ন করা হয়। পরে শারমিন বিষয়টি জানতে পেরে থানায় মামলা করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৭ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে কাজ শেষে বাসায় ফেরেন শারমিন। তখন শ্বশুর-শাশুড়ির প্ররোচণায় সজীব তার ওপর চড়াও হন। শারমিনকে মারধরের সময় তার ২ বছরের শিশু সন্তান মাকে জড়িয়ে ধরতে চায়। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে সজীব শিশুটিকে মায়ের কোল থেকে টেনেহিঁচড়ে কেড়ে নেয়। পরে ঘরের খাটের পাশের দেয়ালে ছুড়ে মারে। মাথায় আঘাত পেয়ে শিশুটির খিঁচুনি শুরু হয়। শারমিন বারবার শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার আকুতি জানালেও স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে উল্টো মারধর করে অচেতন করে ফেলে।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, শিশুর মায়ের করা হত্যা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মামলার ৩ নম্বর আসামি (শিশুর দাদা) মো. হানিফকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।