অনলাইন জুয়ার বিরোধে দুই যুবককে আটকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৯

অনলাইন জুয়ার লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে মেহেরপুরের গাংনী থেকে দুই যুবককে চুয়াডাঙ্গার হাতিকাটায় ডেকে নিয়ে একটি বাড়ির বেজমেন্টে আটকে নির্যাতন চালানো হয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নির্যাতন ও নির্যাতনের শিকার ওই দুই যুবকসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের সবার মুঠোফোনে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন অ্যাপ পাওয়া গেছে। অভিযানে মাদকও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রাম থেকে নুর ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ (২৪) ও কাবিল উদ্দিনের ছেলে জুনায়েদকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাতিকাটা গ্রামে ডেকে নেওয়া হয়। তারা দুজনই অনলাইন ক্যাসিনোর এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে হাতিকাটা গ্রামের প্রবাসী মিজানুর রহমানের বাড়ির বেজমেন্টে তাদের আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে চুয়াডাঙ্গা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা-পুলিশের একটি দল বিকেলে অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে উদ্ধার ও জড়িত অন্য সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার দুই যুবক ছাড়া গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—হাতিকাটা গ্রামের রাকিব, আলভী, বাঁধন, ফরহাদ, নাফিসসহ আরও দুজন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এশিয়া পোস্টকে জানান, অনলাইন জুয়ার লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরেই মেহেরপুর থেকে ডেকে এনে নির্যাতন করা হচ্ছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আসামি করে জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সবাইকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন জুয়া সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন জব্দের পর ক্যাসিনোর একাধিক অ্যাপ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইনের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে।



