logo
Advertisement

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ধামরাইয়ের ১০৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ধামরাই
প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ধামরাইয়ের ১০৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়
দক্ষিন দেপাশাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : এশিয়া পোস্ট

ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৭টিতেই দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়গুলো কোনোরকমে চালানো হলেও তীব্র শিক্ষক সংকটে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ধামরাই উপজেলায় রয়েছে মোট ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

Advertisement

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বহু বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যাও বেশ সীমিত। অনেক প্রতিষ্ঠানে মাত্র তিন থেকে চারজন শিক্ষককে দিয়ে পুরো পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ চালাতে হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও শ্রেণিকক্ষে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর প্রভাবে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা যেমন কঠিন হচ্ছে, তেমনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থী ভর্তির হারও।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা প্রশাসনিক কাজে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে বাধ্য হওয়ায় নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে পারছেন না। তা ছাড়া, সহকারী শিক্ষকদের ওপর প্রধান শিক্ষকের বাড়তি দায়িত্ব অর্পণ করায় অনেক সময় অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

ইন্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হালিম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে ২০১৪ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক নেই। ওই বছর শিক্ষা অফিস আমাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়। প্রশাসনিক কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গেলে প্রায় পুরো দিন কেটে যায়। ফলে প্রশাসনিক দায়িত্বের সামাল দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

কুশুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে অন্য শিক্ষকদের একাই একাধিক শ্রেণিতে পাঠদান সামলাতে হয়। আবার তিনি প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকলে নিয়মিত ক্লাসই হয় না। এতে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য আক্ষেপ করে জানান, তাদের বিদ্যালয়ে ২০১৬ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হবে।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাখখারুল ইসলাম মিজান জানান, মামলার আইনি জটিলতার কারণেই এতদিন নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মামলার নিষ্পত্তি হলে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে। শিক্ষক সংকট কাটাতে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের শূন্যপদের হালনাগাদ তথ্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।