শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের পরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান সরকার মানসম্মত শিক্ষার দিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষা খাতের অভাব-অনটন দূর করতে আগামী বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বরিশালের উদ্যোগে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিন্ন মানদণ্ড বজায় রাখতে এবং বৈষম্য দূর করতে একই প্রশ্নে সারা দেশে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
মন্ত্রী জানান, দেশের মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস সমন্বিতভাবে চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা শুরু হয়েছে। সার্বিক মতামতের ভিত্তিতে আগামী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
মিলন বলেন, বিগত সরকার শিক্ষা খাতকে অবহেলার পাত্র করেছিল। ছাত্র-শিক্ষক কিংবা অভিভাবক নয়, সদিচ্ছার অভাবেই শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। বিগত সরকারের মন্ত্রীসহ দায়িত্বরতদেরকেই সেই দায় নিতে হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বরিশালের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলমসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
এরপরে মন্ত্রী বরিশাল সিটি করপোরেশনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।