নওগাঁয় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১০

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে নির্বাচনি প্রচার কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ি ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে মাখনা কোমলগোটা এলাকায় নির্বাচনি প্রচার শেষে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আ স ম সায়েমসহ কর্মীরা অন্য এক কর্মীর বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজের জন্য অবস্থান করছিলেন। এ সময় পাশের গোপাই গ্রামের বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন কর্মী সেখানে গিয়ে ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলা শুরু করলে দুপক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
নওগাঁ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম দাবি করেন, গণসংযোগ শেষে প্রার্থী বিশ্রাম নেওয়ার সময় বিএনপির কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থীকে হত্যার উদ্দেশ্যে পাইপ দিয়ে হামলা করা হয়েছে। এতে আমাদের ৮ কর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। বরং আমাদের কর্মীরা ভিডিও করতে গেলে জামায়াতের লোকজন হামলা করে এবং মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে। এতে আমাদের দুজন আহত হয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে বিএনপির এক নেতার বাড়িতে ভোজের আয়োজনে জামায়াতের অভিযোগের কারণে প্রশাসন বাধা দিয়েছিল, যার জেরে বর্তমান উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।উভয়পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।