দুদিনেও উদ্ধার হয়নি ব্যবসায়ীর মাথা, দেহ দাফন

বরগুনায় গলা কেটে হত্যা করা ব্যবসায়ী মো. শামীম বেপারীর মাথার সন্ধান দুদিনেও মেলেনি। ময়নাতদন্ত শেষে মাথাবিহীন দেহ দাফন করা হয়েছে।
এর আগে, গত রোববার (৭ জুন) রাতে নিখোঁজ হন ওই ব্যবসায়ী। পরদিন সোমবার বেলা ১১টার দিকে গৌরীচন্না বাজার-সংলগ্ন খালের কচুরিপানার মধ্যে তার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা কয়েক ঘণ্টা ধরে খালে অনুসন্ধান চালিয়েও মাথার সন্ধান পাননি।
নিহত মো. শামীম বেপারী সদর উপজেলার গৌরীচন্না গ্রামের মোনছের আলী বেপারীর ছেলে।
জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার রাতে মাথাবিহীন দেহ দাফন করেন স্বজনরা। এ ঘটনায় সোমবার মধ্যরাতে নিহতের স্ত্রী রোকসানা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্তও নিহত ব্যবসায়ীর মাথার সন্ধান পায়নি পুলিশ। স্বজনরা দ্রুত মাথা উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিহতের স্ত্রী রোকসানা বেগম বলেন, আমার স্বামীর মাথা ছাড়াই দেহ দাফন করেছি। প্রশাসনের কাছে আমার স্বামীর মাথা খুঁজে বের করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি অভিযোগ করেন, থানা পুলিশ বলেছিল, সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিয়ে খালে অনুসন্ধান চালানো হবে। কিন্তু বিকেল হয়ে গেলেও তারা আসেনি।
বরগুনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. আলী সাজ্জাদ বলেন, আমরা সাধারণত দুর্ঘটনার ঘটনায় পানিতে অনুসন্ধান চালাই। তবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী ডুবুরি দল নিয়ে কাজ করা হয়। কিন্তু দেহ উদ্ধারের পর পুলিশ আমাদের আর খোঁজার জন্য কিছু জানায়নি।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীম বলেন, ব্যবসায়ী শামীম বেপারী হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনও মাথার সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
