মাদকাসক্ত বাবার ভয়ে থানায় শিশু, বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

মাদকাসক্ত বাবার ভয়ে পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার ইন্দুরকানী থানায় এসে আশ্রয় নেওয়া ১২ বছরের এক শিশুকে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা—চণ্ডীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত হাওলাদারকে (৬০) দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে উপজেলা বিএনপি।
রোববার (১৬ আগস্ট) শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইন্দুরকানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সাফায়েত হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম (৫৫)। তিনি উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
অভিযোগে বলা হয়, সাফায়েত হাওলাদার শিশুটির বাবা। তিনি মাদকাসক্ত এবং শিশুটির সাথে অশোভন আচরণ ও আপত্তিকর কথাবার্তা বলেন। একই সাথে শিশুটিকে বাল্যবিবাহ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় শিশুটিকে বাবার কাছে রাখা নিরাপদ নয় উল্লেখ করে তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার আবেদন করা হয়।
পরে শিশুটি নিজেই ইন্দুরকানী থানায় এসে নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় চাইলে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। শিশুটির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভান্ডারিয়ার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাফায়েত হাওলাদারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। সোমবার (১৭ আগস্ট) জিয়ানগর উপজেলা বিএনপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় নীতি-আদর্শ পরিপন্থী ও নৈতিক স্খলনজনিত কার্যকলাপের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চণ্ডীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সাফায়েত হাওলাদারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জিয়ানগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ আহম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক আ. রাজ্জাক হাওলাদার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের পরামর্শক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাফায়েত হাওলাদার। তিনি বলেন, আমার ছোট মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। সে কী বলছে, তা আমি জানি না। আর কী কারণে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও আমি অবহিত নই। আমি বিএনপির একজন ত্যাগী কর্মী। আওয়ামী লীগের আমলে আমি বারবার মামলা ও হামলার শিকার হয়েছি।
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, শিশুটির বাবা সাফায়েত হাওলাদার মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশুটিকে নিয়ে তার অশোভন আচরণ, আপত্তিকর কথাবার্তা ও বাল্যবিবাহ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে। শিশুটির নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভান্ডারিয়ার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, চণ্ডীপুর এলাকার মাদকাসক্ত বাবার কাছে মেয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগায় সে ইন্দুরকানী থানায় এসে আশ্রয় নেয়। পরে তাকে সরকারি হেফাজতে ভান্ডারিয়া সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয় এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক সামগ্রী প্রদান করা হয়।


