সরঞ্জাম আছে, চিকিৎসা নেই

ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল। এই রোগের চিকিৎসায় সারা দেশ থেকে ছুটতে হয় রাজধানী ঢাকায়। রাজধানীমুখী ভোগান্তি কমাতে দক্ষিণাঞ্চলের একাংশের জন্য নেওয়া হয়েছিল পরিকল্পনা। ২০১৭ সালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপন করা হয় ক্যানসার চিকিৎসার উন্নত সরঞ্জাম। কিন্তু ক্যানসার ইউনিট চালু না করায় সুফল পাননি রোগীরা। দুই দফা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ক্যানসার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটিতে একটি ক্যানসার পরীক্ষাগার ও রেডিয়েশন থেরাপি ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ২০১৭ সালে হাসপাতালে আনা হয় ক্যানসার চিকিৎসার লিনিয়ার এক্সিলারেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। খরচ হয়েছিল ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবলের অভাবে দীর্ঘ সময় পার হলেও ক্যানসার ইউনিটটি চালু করা যায়নি। বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে সংবেদনশীল এসব সরঞ্জাম।
চিকিৎসকদের উদ্বেগ
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, লিনিয়ার এক্সিলারেটর (LINAC) আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম। এটি মূলত রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে উচ্চশক্তির রশ্মি ক্যানসার কোষের ওপর প্রয়োগ করে সেগুলো ধ্বংস করা হয় বা তাদের বৃদ্ধি কমিয়ে আনা হয়।
এই মেশিনের মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ক্যানসার আক্রান্ত স্থানে রেডিয়েশন প্রয়োগ করা সম্ভব হয়। ফলে আশপাশের সুস্থ কোষ তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব উন্নত হাসপাতালেই ক্যানসার চিকিৎসার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশিয়া পোস্টের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মত দিয়েছেন, অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে কার্যক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে লিনিয়ার এক্সিলারেটরের মতো সংবেদনশীল যন্ত্র অনেক দিন বন্ধ অবস্থায় থাকলে বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তারা জানান, দ্রুত ইউনিটটি চালু করা না যায়, তাহলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে কেনা এই সরঞ্জাম পুরোপুরি অকেজো হয়ে যেতে পারে। তখন সরকারের কোটি টাকার বিনিয়োগ কার্যত অপচয়ে পরিণত হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুই দফা চিঠি
ক্যানসার ইউনিটটি চালু করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছে। ২০২৫ সালের ২২ মে এবং একই বছরের ২৬ নভেম্বর দুই দফায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো এবং বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
জানতে চাইলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ূন কবির এশিয়া পোস্টকে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তারা বিষয়টি দেখার জন্য জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটকে জানিয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরঞ্জামগুলো বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল এবং বাজেট না থাকায় আমরা ইউনিটটি চালু করতে পারছি না।