logo

‘১টি খুন করলে যে সাজা, ১০টি করলেও তা-ই’, অডিও পাঠিয়ে হুমকি

‘১টি খুন করলে যে সাজা, ১০টি করলেও তা-ই’, অডিও পাঠিয়ে হুমকি

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় শ্রমিক দল নেতা আজিজ উদ্দিনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই অডিওতে মোবারক হোসেন ওরফে ইমন নামের এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘তোর ভাইকে যেমন ১০ হাজার মানুষের মাঝখানে গুলি করে মেরেছি, ৫০ হাজার পুলিশ নিয়ে থাকলেও ঘরে গিয়ে তোকে মেরে ফেলব। ১টি খুন করলে যে সাজা, ১০টি খুন করলেও সেই সাজা।’ 

রোববার (২৫ জানুয়ারি) হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে আজিজ উদ্দিন পুলিশকে জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত মোবারক হোসেন চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। নগরের বায়েজিদ ও আশপাশের এলাকায় খুন, চাঁদাবাজি ও প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজির ঘটনায় বারবার মোবারকের নাম এলেও পুলিশ তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। যাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেই আজিজ উদ্দিন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি গত বছর নির্বাচনী প্রচারণায় গুলিতে নিহত সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলার ছোট ভাই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ওই অডিওর শুরুতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় গালিগালাজ করতে শোনা যায়। সেখানে আজিজকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, প্রশাসন কয়দিন পাহারা দেবে এবং প্রশাসন দিয়ে কোনো লাভ হবে না। 

অডিওতে মোবারক দম্ভোক্তি করে বলেন, তিনি নিজেই আজিজকে মারতে যাবেন এবং তার ভাইয়ের মতো তাকেও গুলি করে শরীর ঝাঁঝরা করে দেবেন। অডিওর একপর্যায়ে তিনি বলেন, একটি খুন করলে যে সাজা হয়, একাধিক খুন করলেও একই সাজা হবে।

হুমকির বিষয়ে আজিজ উদ্দিন জানান, ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বিষয়টি মৌখিকভাবে পুলিশ কমিশনার ও স্থানীয় থানাকে জানিয়েছেন। 

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জাহিদুল কবির গণমাধ্যমকে বলেন, সন্ত্রাসী মোবারককে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিদেশি নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে তিনি হুমকি দেওয়াসহ নানা অপরাধ করে আসছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ নভেম্বর খন্দকারপাড়া এলাকায় বিএনপির গণসংযোগে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন সরোয়ার হোসেন। তিনি নিজেও অন্তত ১৫টি মামলার আসামি ছিলেন। পুলিশ সেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শুটারকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা এখনো অধরা।