সার ডিলার নিয়োগে এমপির ভাতিজার বউকে সুপারিশ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সরকারি সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলামের ভাইয়ের ছেলের বউ রোকসানা আফরোজকে সুপারিশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোকসানা উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।
জানা যায়, সরকারিভাবে সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২১ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেন। পরে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলামের ভাতিজার বউ রোকসানা আফরোজের মালিকানাধীন জান্নাত ট্রেডার্সকে সুপারিশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান।
বঞ্চিত আবেদনকারীদের অভিযোগ, ডিলার নিয়োগে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের সুপারিশে রোকসানা আফরোজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে সঠিকভাবে ডিলার নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আবেদনকারী বঞ্চিত শামীম ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার নিজের জমিতে গোডাউন তৈরি করা আছে। সেখানে ৩০০-৪০০ টন মালামাল রাখা হলেও কোনো সমস্যা হবে না। আমি চলমান একটি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছি। আমার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখবেন যে আমার ব্যবসার ধরন কেমন, আমি কতটুকু নিয়ম মেনে ব্যবসা করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বেশি কিছু বলতে চাই না, কারণ আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পরে আবার আমার ওপর চাপ আসবে। তবে আমি যতটুকু জেনেছি, এগুলো বিভিন্নজন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ নিচ্ছে। আমাদের দলীয় কোনো ক্ষমতাও নেই, আমাদের নামও পাশ হয় না। ব্যাংকের যে লেনদেন দেখানো প্রয়োজন, সেখানে তাদের চাহিদার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হবে আমার লেনদেন।’
আরেক ব্যবসায়ী জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এতদিন ধরে ব্যবসা করি। সব ধরনের শতভাগ কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন দিয়েছি। জানি না, এর পরেও কেন আমারটা বাতিল হলো। তবে এখন শুনছি অমুক নেতার বউ, তমুক নেতার বউয়ের হচ্ছে। তাহলে আমাদের সাধারণ মানুষদের এমন হয়রানি করার কী প্রয়োজন ছিল? দলীয়ভাবে নিয়ে নিতো।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, জেলা কমিটি আমাদের কিছু শর্ত দিয়েছিল। সেই শর্তের ভিত্তিতে আমরা তালিকা করে পাঠিয়ে দিয়েছি। তিনি মহিলা এমপির বউ কি না, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। আমরা অফিসার নিয়োগ করে দিয়েছিলাম তদন্তের জন্য। তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা কমিটিতে পাস করে আমরা জেলা কমিটির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।’