logo

পাওনা ৬০০ টাকা চাওয়ায় তিন ছেলেসহ মাকে কুপিয়ে জখম

পাওনা ৬০০ টাকা চাওয়ায় তিন ছেলেসহ মাকে কুপিয়ে জখম
বাউফল থানা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পটুয়াখালীর বাউফলে পাওনা মাত্র ৬০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তিন ছেলে ও মাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। তাদের মধ্যে চারজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত দুজনকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের গোয়ালিয়া বাঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত তিনভাই হলেন— মো. জহিরুল ইসলাম, মো. খাইরুল ইসলাম ও মো. রেজাউল করিম এবং তাদের আহত মা মনোয়ারা বেগম। এছাড়া আহত অপর দুই ব্যক্তি হলেন— হোসনেয়ার বেগম ও পূর্ণি বেগম। আহতদের মধ্যে জহিরুল, খাইরুল, রেজাউল ও মনোয়ারাকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববারের বিরোধের ঘটনায় রাসেলও আহত হয়েছিলেন। পরদিন সকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশ বসানো হলেও সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর জহিরুলের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত জহিরুল ইসলাম জানান, প্রতিবেশী রাসেলের জমিতে কাজ করায় পারিশ্রমিক হিসেবে তার ৬০০ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার তাদের মধ্যে বিরোধ হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সোমবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে।

জহিরুলের অভিযোগ, সালিশে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি সেখান থেকে বাড়িতে চলে যান। কিছুক্ষণ পর রাসেল ও তার সঙ্গে থাকা কয়েক ব্যক্তি বাড়িতে এসে হামলা চালান। তাকে রক্ষা করতে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এসময় তাদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। এতে তার মা, দুই ভাইসহ পরিবারের ছয়জন আহত হন।

ইউপি সদস্য মো. ফারুক হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, রোববারের ঘটনার পর সোমবার সালিশ বৈঠকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছিল। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির পর রাসেল মৃধা ও তার পরিবারের লোকজন জহিরুলের বাড়িতে গিয়ে হামলা করেছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. মামুনুর রশিদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।