logo

চামড়ার বাজারে ক্রেতা সংকট, কম দাম ও বকেয়া টাকার চাপ

চামড়ার বাজারে ক্রেতা সংকট, কম দাম ও বকেয়া টাকার চাপ
বগুড়া চামড়া জড়ো করে রাখা হয়েছে সড়কের পাশে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠত বগুড়ার চামড়ার বাজার। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করে এখানে বিক্রি করতেন। এবার বাজারে সেই পরিচিত ব্যস্ততা নেই। ক্রেতা সংকট, কম দাম এবং বকেয়া টাকার চাপ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে আগের বছরের পাওনা আটকে থাকায় অনেক আড়তদার এবার সীমিত পরিসরে ব্যবসা করছেন। ফলে বাজারে নগদ অর্থের সংকট তৈরি হয়েছে। প্রভাব পড়েছে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ওপরও।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গ্রামাঞ্চল থেকে বেশি দামে চামড়া কিনে আনলেও শহরের বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না। গরুর চামড়া কিনতে যেখানে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছ। বিক্রির সময় অনেক ক্ষেত্রেই ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি পাওয়া যাচ্ছে না।

খাসির চামড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কিনে বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। অনেকেই লোকসানের ভয়ে চামড়া সংগ্রহ কমিয়ে দিয়েছেন।

বগুড়া শহরের আড়তগুলো ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় চামড়ার মজুত কম। অনেক ব্যবসায়ী ঝুঁকি এড়াতে অল্প পরিমাণ চামড়া কিনছেন। অনেকে বাজার পরিস্থিতি বুঝে আগেই ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন।

মৌসুমি ব্যবসায়ী মংলা মিয়া বলেন, যে দামে চামড়া কিনেছি, সেই দামও উঠছে না। এখন বিক্রি না করলে আবার সংরক্ষণ খরচ বাড়বে।

আড়তদার রিপন তালুকদার বলেন, আগের পাওনা না পাওয়ায় বাজারে পুঁজি সংকট তৈরি হয়েছে। ট্যানারি থেকে টাকা আদায় না হলে ব্যবসা সচল রাখা কঠিন।

বগুড়া জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি জাহেদুর রহমান মুক্তা বলেন, লবণের দাম বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ ব্যয় বাড়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পশুর চামড়ার মান নিয়েও রয়েছে সমস্যা। ল্যাম্পি রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর চামড়ার মান খারাপ হওয়ায় অনেক চামড়া কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি মনে করছেন, ট্যানারি মালিকদের বকেয়া দ্রুত পরিশোধ এবং বাজারে কার্যকর নজরদারি না বাড়ালে আগামীতে চামড়া খাতে আরও বড় সংকট দেখা দিতে পারে।