জামায়াত নেতার মৃত্যুতে থমথমে শেরপুর, বিচার দাবি

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। তাকে উদ্ধার করে শেরপুর থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংঘর্ষের পর থেকেই ঝিনাইগাতীর দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা। আর এলাকায় শুনশান নীরবতা বিরাজ করছে। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত দুই দলের সমর্থকদের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচনি ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে হঠাৎ বাকবিতণ্ডা বাধে বিএনপি-জামায়াত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা, শুরু হয় সংঘর্ষ। আহত হন উভয় পক্ষের অন্তত ৬০ জন। বাদ যায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি প্রভাষক মাওলানা রেজাউল করিম। রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার।
এ বিষয়ে জামায়াত নেতারা অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। রাতে জেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয় জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। লাশের ময়নাতদন্ত হচ্ছে। আমরা পরবর্তী করণীয় ঠিক করে আপনাদের জানাব। পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তবে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করে বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের দলের কমপক্ষে ১৫ কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে। আর একজন মারা গেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
অন্যদিকে এ ঘটনার জন্য জামায়াতে ইসলামীকেই দায়ী করেন শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। তিনি বলেন, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।