logo
Advertisement

পঞ্চগড়ে শিক্ষককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
পঞ্চগড়ে শিক্ষককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ
প্রধান শিক্ষককে গাছে বেঁধে নির্যাতন। ছবি : এশিয়া পোস্ট

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং জমি বন্ধকের জন্য রাখা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনতাই করা হয় বলে জানা গেছে।

Advertisement

এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় এজাহার দিয়েছেন নির্যাতনের শিকার শিক্ষক মাহামুদ আলম প্রধান। এদিকে নির্যাতনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে (ভাইরাল) জেলাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, গত সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের মাগুড়া প্রধানপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত মাহামুদ আলম প্রধান ৭১ নম্বর গড়িনাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

থানায় দাখিল করা এজাহারে মাহামুদ আলম উল্লেখ করেন, প্রতিপক্ষ সফিজুল, নুর ইসলাম ও বাবুদের সংগে তার দীর্ঘদিনের পারিবারিক জমিসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়। ঘটনার দিন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে অর্ধদিবস ছুটি নেন তিনি। ব্যাংকের কাজ শেষ করার আগে দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার জন্য মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন তার পথরোধ করে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়।

এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল ভেঙে দেয়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে তাকে একটি কাঁঠালগাছের সংগে রশি দিয়ে গলা থেকে পা পর্যন্ত বেঁধে রেখে প্রায় দেড় ঘণ্টা নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার কাছে থাকা জমি বন্ধক ফেরতের নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। একই সংগে তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া ও বাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

শিক্ষকের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে এবং জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দেওয়া হলে পঞ্চগড় সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শয্যা না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

আহত শিক্ষক মাহামুদ আলম প্রধান বলেন, ভিডিওতেই সবাই দেখেছেন আমাকে কীভাবে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আনসার আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। পরে বাড়িতে এসে বিষয়টি শুনেছি।

মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র জানান, ঘটনাটি জানার পর তিনি গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েছিলেন, তবে তার আগেই ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। বিষয়টির তদন্ত চলছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।