রংপুরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ ১১ জনের, শনাক্ত ৩

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ১১ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আইইডিসিআরের পরীক্ষায় তিনজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন রংপুরের জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ খান।
অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ পাওয়া ১১ জন হলেন পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের আবু তালেব (৫৯), মাহফুজা বেগম (৩০), আনোয়ারা বেগম (৫৫), শাহাদাত হোসেন (৩৯), কবির মিয়া (৫), মুকুল মিয়া (৩৮), রফিকুল ইসলাম (৩০), কাকুলি (১৯), সজিব মিয়া (২৩), আবদুল মান্নান (৬০) ও মোছা. স্বপ্না বেগম (৪৫)। তাদের মধ্যে সজিব মিয়া, স্বপ্না বেগম ও আবদুল মান্নানের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে।
পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের আদমপাড়া গ্রামের সজিব মিয়া কয়েক মাস আগে একটি গরু কিনে লালনপালন শুরু করেন। গত ২১ আগস্ট হঠাৎ গরুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে কাউকে না জানিয়ে তিনি গরুটি জবাই করে এলাকার মানুষের মধ্যে মাংস ভাগাভাগি ও বিক্রি করেন। ওই গরুর মাংস কাটা ও খাওয়ার কারণে ওই এলাকার ১১ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়।
খবর পেয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পরিচালক, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও জেলা সিভিল সার্জনের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাকিল আহমেদ বলেন, অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির ১০ থেকে ১৫ দিন পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। কয়েকজনের হাতে ফোসকা দেখা যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তারা ওই এলাকায় গিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে আর কোনো গরুকে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
ডা. শাকিল আহমেদ বলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে ওই এলাকার সব গরুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। তারা যাওয়ার পর দেখতে পান, অধিকাংশ রোগীর ঘা শুকিয়ে গেছে। বর্তমানে অ্যানথ্রাক্সের কোনো ঝুঁকি নেই। অসুস্থ গরুর মাংস যাতে কেউ বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন।
রংপুরের জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ খান বলেন, অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গের খবর পেয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর আইইডিসিআরের একটি দল উপসর্গযুক্ত ১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে তিনজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। বাকিদের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। বর্তমানে আক্রান্ত তিনজনই সুস্থ আছেন।
ডা. ফিরোজ খান বলেন, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধের কাজ মূলত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের। আর আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ তারা নিয়ে থাকেন।
