৬০ হাজার কোটি টাকায় হচ্ছে ঢাকা-কুমিল্লা রেলপথ

ঢাকা-কুমিল্লার মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত করতে ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথ নির্মাণ হচ্ছে। প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাবিত এ রেলপথ কুমিল্লা থেকে দাউদকান্দি, শ্যামপুর, ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা–কুমিল্লা যাতায়াতের দূরত্ব কমার পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
প্রস্তাবিত রেলপথটির নাম ‘কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ’। প্রচলিত রেলপথের বিকল্প হিসেবে এ কর্ড লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রেলপথটির বড় অংশ উড়ালপথে নির্মাণ এবং এতে কোনো লেভেল ক্রসিং রাখা হবে না।
বর্তমানে কুমিল্লা থেকে আখাউড়া, ভৈরব বাজার ও টঙ্গী হয়ে ঢাকায় যেতে হয়। নতুন রেলপথ চালু হলে বিদ্যমান পথের তুলনায় দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমতে পারে। এতে রাজধানীর সঙ্গে কুমিল্লার যোগাযোগ আরও দ্রুত হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামমুখী রেল চলাচলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন রেলপথ চালু হলে ঢাকা–লাকসাম–চট্টগ্রাম রুটে যাত্রার সময় কমে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে। রেলের বহরে নতুন কোচ ও ইঞ্জিন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এতে ২৬০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ, ৩০টি লোকোমোটিভ, ২০০টি মিটারগেজ ক্যারেজ, চারটি হুইল লেদ এবং চারটি রিলিফ ট্রেন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, কুমিল্লা–ঢাকা সরাসরি নতুন রেললাইন স্থাপনের দাবিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। তার মতে, নতুন কর্ড লাইন চালু হলে কুমিল্লার মানুষের রাজধানীকেন্দ্রিক যাতায়াত সহজ হবে। কুমিল্লায় বসবাস করেও ঢাকায় গিয়ে নিয়মিত অফিস করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।