শজিমেক হাসপাতালে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৬

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এই মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। নাম উল্লেখ থাকা অপর আসামি পলাতক রয়েছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে গ্রেপ্তার ছয়জনকে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন—বগুড়া সদর উপজেলার ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়ার মো. সাজুর ছেলে মো. নাফিউল (২৬), ফুলবাড়ী মধ্যপাড়ার মো. মিজানুর রহমানের ছেলে প্রান্ত (২২), ফুলবাড়ী উত্তরপাড়ার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে এস এম সিহাব (১৯), একই এলাকার সবুজ প্রামাণিকের ছেলে মো. রাকিবুল হাসান (১৯), নিশিন্দারা পূর্ব খাঁপাড়ার মো. জাকির হোসেনের ছেলে মো. তানবিন শেখ (২৬) এবং নামাজগড় ভান্ডারী মসজিদ এলাকার মো. লোকমান হাকিমের ছেলে মো. বিপ্লব সরদার (২৬)।
পুলিশ জানায়, নাফিউল ও প্রান্ত ঘটনার সময় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে তাঁদের পুলিশ হেফাজতে থানায় নেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে নাম থাকা ১ নম্বর আসামি ফুলবাড়ী উত্তরপাড়ার মো. রনটির ছেলে মো. মনির (২৬) পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে শজিমেক হাসপাতালের সপ্তম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজাপুর গ্রামের মো. আব্দুল মালেক (৫৫) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, বার্মিজ চাকু ও লোহার রড নিয়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান। এতে কয়েকজন চিকিৎসক আহত হন এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর হাত ভেঙে যায়। এ ছাড়া আজরফ ইসলামসহ কয়েকজন রক্তাক্ত জখম হন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় ওয়ার্ডের চিকিৎসাসামগ্রী ও সরকারি মালামাল ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি মুঠোফোন ও একটি স্টেথোস্কোপ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কয়েকজনকে আটক করে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শজিমেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
ওসি ইব্রাহীম আলী আরও জানান, হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দেওয়ার পর মামলাটি রেকর্ড করা হয়। গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



