খুলনা প্রেসক্লাবে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি

খুলনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে সাংবাদিকরা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার হুমকির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মানববন্ধন চলাকালে প্রেসক্লাব-সংলগ্ন সড়ক অবরোধ করা হয়। এ সমাবেশে বিএনপি নেতা সেকেন্দার জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, আরিফুজ্জামান অপু, শমসের আলী মিন্টু, জামাল মোড়ল, সরদার আবু তাহের, ইসলামী আন্দোলনের মো. নাসির উদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে হামলার পরপরই রোববার রাতে প্রেসক্লাবে অবস্থানরত সাংবাদিকরা বিক্ষোভ করেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এর আগে রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে প্রেসক্লাবের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দত্ত বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন রিপন আকন, গাউস, হালিম ও মিজান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দেশীয় অস্ত্রসহ একদল সন্ত্রাসী খুলনা প্রেসক্লাবে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা ৩০ এপ্রিলের নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী দৈনিক পূর্বতন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা সরোয়ারকে খুঁজতে থাকে এবং তাকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করে।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিক তারিকুল ইসলামসহ অন্যরা বাধা দিলে হামলাকারীরা তাদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে রাতভর অভিযান চালানো হলেও এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।