logo
Advertisement

পদ্মা ব্যারাজে সুফল পাবে ২৪ জেলার মানুষ: পানিসম্পদ মন্ত্রী

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া
পদ্মা ব্যারাজে সুফল পাবে ২৪ জেলার মানুষ: পানিসম্পদ মন্ত্রী
কুষ্টিয়ায় হরিপুর-সালদাহ পদ্মা-গড়াই মোহনা পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। ছবি : এশিয়া পোস্ট

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৫ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর-সালদাহ পদ্মা-গড়াই মোহনা পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব কথা বলেন তিনি।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি ও ইশতেহারে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল। জনগণ ম্যান্ডেট দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় প্রথম পর্যায়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৫ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটির কারিগরি সহায়তা, সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় কাজ করা হয়েছে। ২০০৪ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল। ২০২৬ সালে এসে সেই কাজ শেষ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দৃশ্যমান করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তিনি জাতির সামনে এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং নির্বাচনি ইশতেহারে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আশা করা হচ্ছে, আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরেজমিনে এসে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন।

পদ্মা ব্যারাজের সুফল তুলে ধরে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষি কার্যক্রমে গতি আসবে। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ও বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণেও প্রকল্পটি সহায়তা করবে। নদীর প্রবাহ ও গতিপ্রকৃতি ঠিক না থাকায় অনেক সময় নদীর তীরের বাঁধ ভেঙে যায়। এতে বসতবাড়ি, বাজারসহ স্থানীয় জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় খালসহ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন জলপ্রবাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে কৃষি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সুন্দরবনের প্রতিবেশব্যবস্থাও ভারসাম্য হারায়।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে এই অঞ্চলের ১৯টি জেলার আশপাশের উপকারভোগীসহ মোট ২৪ জেলার মানুষ প্রকল্পটির সুফল পাবেন। একেক এলাকায় একেক ধরনের উপকারভোগী থাকবেন এবং তারা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন।

প্রকল্পের অবকাঠামো সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, মূল পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের পাশাপাশি পদ্মা নদী ও গড়াইয়ের সংযোগস্থলেও একটি ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে, যেটিকে গড়াই অফটেক বলা হচ্ছে। সেখানে মাছের চলাচলের জন্য ফিশ পাস, নৌযান চলাচলের জন্য নেভিগেশন লক এবং পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন গেট ও আন্ডার স্লুইস থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, এই এলাকার মানুষকে প্রকল্পটির সম্পূর্ণ সুফল দেওয়াই তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সেই লক্ষ্যেই সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এ অঞ্চলে দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে এবং মানুষ প্রকল্পটির সুবিধা পেতে শুরু করবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান, দৌলতপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রাগিব রউফ চৌধুরী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।