logo

সাজেকে স্কুলের অনিয়ম নিয়ে ভিডিও করায় নারীকে মারধরের অভিযোগ

সাজেকে স্কুলের অনিয়ম নিয়ে ভিডিও করায় নারীকে মারধরের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটির সাজেকের দুর্গম অঞ্চলের একটি স্কুলের অনিয়ম তুলে ধরায় নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধরে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম রিতা চাকমা, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘রি জাং সি চাকমা’ নামে পরিচিত। তিনি বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব ছয়নালছড়া পাড়ার বাসিন্দা।

গত ১৬ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাঙামাটির সাজেক ইউনিয়নের ছয়নালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা ও অনিয়মের চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন তিনি।

ছয়নালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মাত্র একজন প্রধান শিক্ষক এবং একজন অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির নানা বিষয় নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করি।

ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই তা সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি এখন পর্যন্ত ভিউ হয়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার বার। যেখানে ৫১৬টি কমেন্ট আছে। প্রায় দেড় হাজার বার ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে।

রিতা চাকমা অভিযোগ করে আরেকটি ভিডিও পোষ্ট করে বলেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। একপর্যায়ে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং গ্রাম থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, জন্ম থেকেই দেখছি সরকারি স্কুলগুলো অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে চলে। দুর্গম হওয়ার কারণে উপজেলা থেকে ঠিকমতো খোঁজ নেওয়া হয় না। আমি ভিডিও করার পর আশপাশের গ্রামগুলোতে এমন অস্থায়ী শিক্ষকের অনেক খবর পাওয়া যাচ্ছে। আপাতত হুমকি ও উচ্ছেদের বিষয় কিছুটা সমাধান হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাজেকের ছয়নালছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৬৪ সালে স্থাপিত হয়েছিল। স্বাধীনতা ৫৪ বছর পরেও উক্ত স্কুলটি টিনের ছাউনি রয়ে গেছে। আর অস্থায়ী শিক্ষকের মাধ্যমে পাঠদান চলছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমা বলেন, বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়ন অনেক দুর্গম। অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যালয় আছে। অস্থায়ী শিক্ষকদের বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয়রা কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেনি। আর যে মেয়েটি এসব তথ্য দিয়েছে তার সাথে এলাকাবাসীর সঙ্গে ঝামেলা আছে বলে শুনেছি।

তিনি বলেন, ওই বিদ্যালয়ে চার শিক্ষকের মধ্যে একজন রাঙামাটিতে সংযুক্ত আর আরেকজন ২০১৯ সাল থেকে একটি মামলার কারণে সাময়িকভাবে বরখাস্ত আছেন। বাকি দুইজন দিয়ে বিদ্যালয় চলছে। ২০২২ সাল থেকে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় পুরো উপজেলায় শিক্ষক সংকট রয়েছে।