১৭০ কিলোওয়াট সোলার থাকলেও সুবিধা পাচ্ছে না হাসপাতাল

সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থাপিত সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা সমন্বয়ের অভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু না থাকায় প্রতি মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাসপাতাল।
নিয়ম অনুযায়ী, ৫ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপনের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে নেট মিটারিং চালু করার কথা। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে বিল সমন্বয় করা যায়।
জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২০ কিলোওয়াট সোলার সিস্টেমে এই সুবিধা চালু থাকলেও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত নেট মিটারিং চালু হয়নি।
গত ছয় বছর ধরে এই সোলার সিস্টেম ‘ওয়ান গ্রিড’ লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে। এতে করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সমন্বয় না হওয়ায় হাসপাতালকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ নেসকোর সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজ রহমান বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে আমাদের কোনো চুক্তি হয়নি এবং সেখানে নেট মিটারও স্থাপন করা হয়নি।
সোলার সিস্টেম স্থাপনকারী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে ১৭০ কিলোওয়াট সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে এবং এটি ওয়ান গ্রিড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, এই সোলার সিস্টেম থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. ওয়াদুদ বলেন, নেসকোর সঙ্গে এখনো আমাদের কোনো চুক্তি হয়নি। তাই হাসপাতালের এখনো নেট মিটারিং চালু হয়নি। যার ফলে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কোন সুবিধা পাচ্ছে না। আমরা নেসকোকে হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি ও নেট মিটারিং স্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে একটা চিঠি দিব এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য নেসকোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
এ বিষয়ে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পর্দ্দার জানান, গত মার্চ মাসে হাসপাতালে প্রায় ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। তবে চুক্তি বা বিল সমন্বয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।