logo

কক্সবাজারে পর্যটক খরা, ঈদেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত বুকিং

কক্সবাজারে পর্যটক খরা, ঈদেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত বুকিং
ছবি: এশিয়া পোস্ট

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হয়েছে সরকারি ছুটি, যা চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। তবে টানা এই ছুটিকে ঘিরেও দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী কক্সবাজারে প্রত্যাশিত পর্যটক সমাগম দেখা যাচ্ছে না। ছাড় দিয়েও কাঙ্ক্ষিত বুকিং পাচ্ছে না হোটেল-মোটেলগুলো। ফলে পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, তীব্র গরম, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে মানুষের ভ্রমণপ্রবণতা কমেছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত বরাবরই ভ্রমণপিপাসুদের প্রধান আকর্ষণ। পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ, ইনানী সৈকত, রামুর বৌদ্ধ বিহার, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ও মহেশখালী দ্বীপ ঈদ কিংবা দীর্ঘ ছুটিতে সাধারণত মুখর থাকে পর্যটকদের ভিড়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন এসব স্থানে।

তবে সোমবার বিকেলে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। জেট স্কি, বিচ বাইক, কিটকট ও ফটোগ্রাফিসহ বিভিন্ন বিনোদনসেবায় নিয়োজিতরা অলস সময় পার করছেন। শামুক-ঝিনুক, শুঁটকি ও বার্মিজ পণ্যের দোকানিরাও পর্যটকের অপেক্ষায় বসে আছেন।

পর্যটক কম থাকায় হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, খাবারের হোটেল, ক্ষুদ্র ব্যবসা, জিপচালকসহ পর্যটনসেবার সঙ্গে যুক্ত অনেকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

হোটেল ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। তবে দীর্ঘ ছুটির কারণে শেষ মুহূর্তে পর্যটকের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তারা। ব্যবসায়ীদের মতে, সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমিত থাকাও বুকিং কম হওয়ার একটি কারণ।

তারকা মানের হোটেল ওশ্যান প্যারাডাইসের জনসংযোগ কর্মকর্তা সায়ীদ আলমগীর বলেন, কোরবানির ঈদে মানুষের ব্যস্ততা তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই এ সময়ে সাধারণত কক্সবাজারে পর্যটক কিছুটা কম আসে। এবার তীব্র গরমের কারণেও তারকা মানের হোটেলগুলোতে বুকিং ২৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। তবে ঈদের দিন থেকে পর্যটক বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ সড়ক হোটেল-মোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, অন্য বছরগুলোতে কোরবানির ঈদের ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ শুরু হতো। এবার সে ধরনের সাড়া নেই। এখন পর্যন্ত বুকিং হয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। তার ভাষ্য, গরম, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ভ্রমণপ্রবণতায় প্রভাব ফেলছে।

তবে হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, কক্সবাজারে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউস ও রেস্টহাউস পর্যটকদের সেবায় প্রস্তুত রয়েছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ঈদে পর্যটকের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ। সৈকত এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে সি-সেইফ লাইফগার্ড।

সি-সেইফ লাইফগার্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. ফারুক বলেন, অনেক পর্যটক লাল পতাকার বাইরে গিয়ে ঝুঁকি নেন।

তিনি বলেন, পর্যটকদের লাইফগার্ড কর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। তবে পুরো ১২০ কিলোমিটার সৈকত নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব নয়।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, কক্সবাজার প্রকৃতিগতভাবেই অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি পর্যটন নগরী এবং এখানকার মানুষ পর্যটকবান্ধব। তিনি জানান, অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া আদায় বা রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম বাড়ানোর অভিযোগ ঠেকাতে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করবে।