যাত্রাপথ ভুল করা নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় এক নারীকে (২৮) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে হেলাল উদ্দিন (৫৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। তিনি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় বাবার বাড়ি থেকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। গত সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় যাত্রাপথে ভুল করে নান্দাইল চৌরাস্তা এলাকার চলে আসেন। কয়েকজন লোক তাকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাড়াইল সড়কের শিমুলতলা এলাকার একটি বিলে নিয়ে যান। সেখানে চারজন তাকে ধর্ষণ করেন। পরে আরও দুজন ওই এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে আরেক দফা ধর্ষণ করেন।
পরে ওই নারীকে বাড়িটি থেকে বের করে এনে শিমুলতলা এলাকায় রাস্তায় রেখে যান তারা। এ সময় ওই নারী শিশুকে কোলে নিয়ে রাস্তায় বসে কাঁদছিলেন। শিমুলতলা এলাকার ইজিবাইকচালক সুজন মিয়া নারীকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি ধর্ষণের ঘটনা খুলে বলেন। পরে ইজিবাইকচালক সুজন ওই নারীকে প্রতিবেশী মতি মিয়ার বাড়িতে আশ্রয়ে রাখেন।
ইজিবাইকচালক সুজন মিয়া জানান, ওই নারী একটি শিশুকে কোলে নিয়ে বসে কাঁদছিলেন। কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি ঘটনা খুলে বলেন।
আশ্রয়দাতা মতি মিয়া বলেন, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাশারত মিয়া নারীর বিষয়টি গোপন রাখতে হুমকি দেন। আমি যাতে ঝামেলায় না পড়ি সেজন্য তাকে ২০ হাজার টাকা দিতে বলেন। এ ঘটনার সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্যের লোকজন জড়িত থাকতে পারে।
মামলার পর সাবেক ইউপি সদস্য বাশারত মিয়া পালিয়ে যাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে শনিবার সুজন মিয়ার বাড়ি থেকে ওই নারীকে তার শিশুসহ উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নান্দাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই নারীর বাবা মামলা করেছেন। ওই নারীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যতের আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা চলছে।