ড্রাগন বাগানে রাতভর জ্বলে হাজারো লাইট, স্থানীয়দের ক্ষোভ

একদিকে ড্রাগন ফলের বাগানে রাতভর জ্বলছে সারি সারি লাইট, অন্যদিকে একই সময়ে বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের সাধারণ বাসিন্দারা। সারারাত বিপুলসংখ্যক বাতি জ্বালানোর কারণে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
কৃষকদের দাবি, কৃত্রিম আলো ব্যবহারের মাধ্যমে মৌসুমের বাইরে ফুল ও ফল পাওয়া যায়। এতে শীত মৌসুমে উৎপাদনের পাশাপাশি ভালো বাজারদরও পাওয়া সম্ভব। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রাগন বাগানে ব্যাপকহারে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারের সময় এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে যায়। যদিও ড্রাগন বাগানের আলো জ্বালানোর সঙ্গে লোডশেডিংয়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ৪৪৭ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করছেন এক হাজার ৭৯১ জন কৃষক। তাদের মধ্যে ২৫১ জন কৃষক অধিক ফলনের আশায় বাগানে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবহার করছেন। সন্ধ্যা নামার পর এসব বাগানের গাছের সারির মাঝে স্থাপন করা শত শত বাতি একসঙ্গে জ্বলে ওঠে। সকাল পর্যন্ত তা জ্বলতে থাকে। চাচড়া, শিবনগরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
পৌর এলাকার শিবনগর গ্রামের বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে রাতে শিশু, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। শিবনগর ও চাচড়া গ্রামের মাঠে অনেক ড্রাগনচাষি রাতভর বাগানে আলো জ্বালিয়ে রাখছেন।
তিনি বলেন, ড্রাগন বাগানে বৈদ্যুতিক আলো ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা, এর বৈধতা এবং স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে এর প্রকৃত প্রভাব কতটা, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
চাচড়া গ্রামের ড্রাগনচাষি খলিলুর রহমান বলেন, ড্রাগন গরমকালের ফল হলেও লাইটিং পদ্ধতিতে শীত মৌসুমেও ফল পাওয়া যায় এবং তখন বাজারদরও ভালো থাকে। এ কারণে অনেক কৃষক শীতের আগেই লাইটিং শুরু করেছেন। আমিও এক বিঘা জমিতে লাইটিং করেছি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, ড্রাগনচাষিদের লাইটিং পদ্ধতিতে চাষের বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয় না। যারা এই পদ্ধতিতে চাষ করছেন, তারা নিজেদের সিদ্ধান্তেই করছেন।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কালীগঞ্জ উপজেলার আবাসিক প্রকৌশলী জয়দ্বীপ সরকার বলেন, সরকারিভাবে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারের তালিকায় কৃষি খাতের বিষয়টি উল্লেখ নেই। তবে ড্রাগন বাগানে রাতভর বৈদ্যুতিক আলো জ্বালানোর বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ড্রাগন বাগানে রাতভর এলইডি লাইট জ্বালানোর কারণে বিদ্যুতের ঘাটতি হচ্ছে কি না, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে।