logo
Advertisement

কুষ্টিয়া সীমান্তে পুশইন চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি ও এলাকাবাসী

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া সীমান্তে পুশইন চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি ও এলাকাবাসী
সীমান্তে পাহারা দিচ্ছেন বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় পুশইন ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশইনের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনতা। পুশইন ঠেকাতে বিজিবি ৪৭ ব্যাটালিয়ন ও স্থানীয় লোকজন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা রাত জেগে সীমানায় পাহারা বসিয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১২ জুন) সকালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চর মেঘনা নামক এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে ১২ জনকে পুশইন করার চেষ্টা করে বিএসএফ। ১২ জনের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী ও চার শিশু আছে বলে জানা গেছে।

বিজিবি ও প্রাগপুর গ্রামের বাসিন্দারা ভারতের এই চেষ্টাকে প্রতিহত করে দেয়। ওই ১২ জন এখন ভারতীয় সীমান্তের চর মেঘনা নামক স্থানে অবস্থান করছেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় পুশইনের কোনো চেষ্টা সফল হয়নি। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে বিজিবি। স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়েছে। ৪৭ বিজিবির আওতাধীন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে ও নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত লোকবল মোতায়েন করা হয়েছে।

দৌলতপুরের আল্লারদর্গার অধিবাসী হোমিও চিকিৎসক নসিব উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত বিএসএফ কাউকে পুশইন করতে পারেনি।

কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, আমার দায়িত্বপূর্ণ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকা দিয়ে একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। মেহেরপুরের গাংনীর তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ও গ্রামবাসী। তাদের শূন্যরেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে।

বিজিবি কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ছাড়া কয়েক দিন আগে দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধে তারা প্রবেশ করতে পারেনি। কিছু দালাল চক্র এর সঙ্গে জড়িত আছে। তাদের কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, মাইকিং ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পুশইন পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, এই সময়ে সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা বিজিবির পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা বিজিবির সঙ্গে টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন।