সীমান্তের কাছে মিলল গোপন তেলের ভান্ডার

মেহেরপুরের সীমান্তঘেঁষা এক গ্রামে গড়ে ওঠা গোপন তেলের ভান্ডারের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গভীর রাতে চালানো অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি উঠেছে বড় প্রশ্ন, এত বিপুল তেল সেখানে কীভাবে জমা হলো।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত মেহেরপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী দক্ষিণ শালিকা গ্রামে অভিযান চালায় থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ দল।
অভিযানে আবু সুফিয়ানের মালিকানাধীন ‘ফারাবী ট্রেডার্স’ নামের একটি দোকানের গুদাম থেকে ২৬টি ব্যারেলে সংরক্ষিত মোট ৫ হাজার ৩৭৫ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। গুদামটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের তারকাটা থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে হওয়ায় ঘটনাটি উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অভিযান শেষে অবৈধভাবে তেল মজুত রাখার অভিযোগে দক্ষিণ শালিকা গ্রামের সুরাত আলীর ছেলে আবু সুফিয়ানকে (৩৮) ঘটনাস্থলে গ্রেপ্তার করা হয়।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির এশিয়া পোস্টকে বলেন, গোপন তথ্য ছিল যে সীমান্তের খুব কাছেই অবৈধভাবে বিপুল জ্বালানি তেল মজুত করা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এই তেল কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আইনে মজুতকারী আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে।
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো সবসময়ই সংবেদনশীল। এখানে অবৈধ জ্বালানি মজুত, পাচার কিংবা চোরাচালানের ঝুঁকি থাকে। আমরা গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছি। দক্ষিণ শালিকায় যে পরিমাণ তেল উদ্ধার হয়েছে, তা স্বাভাবিক নয়। প্রাথমিকভাবে এটি একটি সংগঠিত অবৈধ মজুত কার্যক্রম বলে মনে হচ্ছে। এর পেছনে কোনো চক্র জড়িত আছে কি না খতিয়ে দেখছি। দায়ীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।