logo

‘তবুও’ ন্যায়বিচারের আশায় দুই চোখ হারানো জাকির

‘তবুও’ ন্যায়বিচারের আশায় দুই চোখ হারানো জাকির

প্রসাধনী ব্যবসায়ী জাকির শেখের দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয় প্রায় ৭ মাস আগে। স্বামীকে নির্যাতনের বিচারের আশায় মামলা করেছিলেন তার স্ত্রী ঝিনুক বেগম। আসামি করা হয় ১৬ জনকে। তবে মামলা হওয়ার পর ৭ মাসে কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

ইতোমধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে ১৬ আসামির মধ্যে ৯ জনকে বাদ দেওয়া হয়। এতে আদালতে বাদীপক্ষ নারাজী আবেদন দিলে বিচারক মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি)। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, জাকির শেখ মাদারীপুরের সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম মাঠ গ্রামের বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট বাড়ি থেকে একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে মফেজ শেখের নেতৃত্বে ১৬ জন তাকে তুলে নিয়ে যায়। জাকিরকে চোর বলে সিরিঞ্জ, খেজুর কাঁটা ও কাঁটা চামচ দিয়ে তার দুই চোখ উপড়ে ফেলে তারা। ঘটনার এক সপ্তাহ পর ১৮ আগস্ট জাকিরের স্ত্রী ঝিনুক বেগম বাদী হয়ে আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালত মাদারীপুর সদর থানাকে মামলা নথিভুক্ত করার আদেশ দেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান।

মামলার বাদী ঝিনুক বেগম অভিযোগ করেন, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন এসআই মাহমুদুল। তিনি মামলা থেকে ৯ জনকে বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছেন। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করলে বিচারক ডিবিকে মামলার তদন্ত করতে নির্দেশ দেন।

জাকির শেখ জানান, মামলাটি দ্বিতীয় দফায় তদন্ত শুরু হওয়ায় তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আছেন। আসামিরা প্রভাবশালী হলেও শেষ দেখতে চান।

অভিযোগের বিষয়ে মামলার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আইন অনুযায়ী তদন্ত করেছি। চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছি। আপনি আদালত থেকে বাকি বিষয় জেনে নেন। 

আসামির কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা (ডিবি) মনির হোসেন বলেন, আমি কিছু দিন হলো দায়িত্ব পেয়েছি। তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলতে পারব।

সার্বিক বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মামলাটি এখন ডিবি তদন্ত করছে। পুনঃতদন্তের পর অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।