logo

পরিদর্শন না করেই সরকারি সফর শেষ করলেন সচিব

পরিদর্শন না করেই সরকারি সফর শেষ করলেন সচিব
সচিব মিরানা মাহরুখ। ছবি: সংগৃহীত

তিন দিনের সফরে তিন জেলায় যাওয়ার কথা ছিল বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখের। সফরসূচিতে ছিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র পরিদর্শন। তবে তা পরিদর্শন না করেই সফরসূচি শেষ করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন মিরানা মাহরুখ। পদোন্নতি দিয়ে গত ১৯ মে তাকে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর সফরসূচি অনুযায়ী ২৭ মে থেকে ২৯ মে পর্যন্ত বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে কয়েকটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র পরিদর্শনের কথা ছিল।

শেষ দিন ২৯ মে দুপুর ১২টায় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা উপকেন্দ্র (৩৩/১১ কেভি) পরিদর্শন ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে করটিয়া ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র পরিদর্শনের সূচি নির্ধারিত ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, টাঙ্গাইলের নির্ধারিত এই দুই স্থানের একটিতেও যাননি সচিব মিরানা মাহরুখ। তিনি টাঙ্গাইলে একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক করে সফর শেষ করেন। বৈল্যা বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বৈঠকটি ছিল এক ঘণ্টার। বৈঠক শেষে মিরানা মাহরুখ ফিরে যান।

বৈঠকে বৈল্যা বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ওবায়দুল ইসলাম, কালিহাতি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান এবং টাঙ্গাইল ডিভিশন-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের পাওয়ার হাউসের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, দুপুরে পরিদর্শনের কথা থাকলেও সচিব মহোদয় রাত পৌনে ৮টার দিকে বৈল্যা অফিসে আসেন। সেখানে প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান করে বিদ্যুৎ বিভাগের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে রিপোর্ট পাঠাতে নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে জানতে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখের ফোনে কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য নেওয়ার জন্য রোববার (৩১ মে) দুপুরে সচিবের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মিরানা মাহরুখের একান্ত সচিব আব্দুল্লাহ আল মনসুর বলেন, আমি ছুটিতে আছি। বিষয়টি আমার জানা নেই।

মিরানা মাহরুখের নিরাপত্তাকর্মী মো. লতিফ জানান, টাঙ্গাইলে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, সচিবের জন্য জেলা সার্কিট হাউসে রজনীগন্ধা কক্ষ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। তবে তিনি সেখানে অবস্থান করেননি।